ধ্রুব দে
তৃতীয় পর্বের পর…..
এতদুর প্রস্তুতির পর বিয়ে হল কলির সঙ্গে। বরযার কাছে ছোট হয়ে গেছে অশোক। বরষার মা-বাবাও নিশ্চিত তাকে লম্পট ভেবে নিয়েছে। আর বিলাস? অশোকের সবচেয়ে বেশি অপরাধী মনে হয় বিলাসের কাছে। ও তার একমাত্র বন্ধু, মনের দোসর।
অশোকের সব ছুটির দিনে বিলাসের ছুটি থাকে না। সে সব ছুটির দিনে অশোক কখনো কখনো বিলাসের অফিসে যায়। প্রাণের কথা বলতে। তার বাড়ি, বিলাসদের বাড়ির সবার কথা শুনতে। সব দিন অবশ্য ফুরসত মেলে না। ফুরসত মিললেও সব কথায় আগের মতো বেজে ওঠে না বিলাস। শোনে বলেও মনে হয় না। কেমন উদাস, অন্য দিকে চেয়ে থাকে। তবু যায়, যেমন আজ গিয়েছিল। বিলাস তাকে বসতেও বলেছিল। ডিম টোস্ট খেতে বলেছিল। খায়নি। বিলাসের ব্যস্ততা দেখে উঠে পড়ে বলেছিল, তাড়া আছে।
বাস থেকে নেমে দোনমনায় রিকশা নেওয়া হল না। বারো টাকা বাঁচল, পকেটে থাকল। এখন নিজের ওপর রাগ হচ্ছে খুব। কী হত, বারো টাকা নয় গচ্চা যেত, এমন নাজেহাল কিন্তু হতে হত না। মাথা নীচু করে আনমনে হাঁটছিল অশোক। পা যেন সরতে চাইছে না। কোনো ক্রমে বাড়ি পৌঁছতে পারলে হয়। আর কতটা পথ বাকি দেখার জন্য হঠাৎ অশোক মাথা তোলে, সামনে তাকাল।
ক্রমশ……
