গার্গী সিনহা
ষষ্ট পর্বের পর….
অতএব এখানকার নুড়ি-পাথরযুক্ত মাটিতে সূক্ষ্ম কাদা-কণাসমৃদ্ধ আঠালো মাটির অনুপস্থিতি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, যে কারণে এ অঞ্চলে দেশজ গৃহনির্মাণে মাটির ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত। ডুয়ার্সের উঁচু স্বাভাবিক অংশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে গড়ে ওঠা টোটোদের জনপদে গেলে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এখানে পাহাড়ী ঢালের পাথুরে ভূমিতে কাদামাটি একেবারেই নেই, তাই টোটোদের বাসগৃহে মাটির বিন্দুমাত্র ব্যবহার চোখে পড়ে না। উল্টোদিকে সমভূমির আরণ্যক জনজাতির যেমন মেচ বা বোড়ো, রাভা, গারোদের গৃহনিমার্ণে অল্প হলেও কাদামাটির ব্যবহার দেখা যায়। গৃহনিমার্ণের এসমস্ত যাবতীয় উপকরণ দেশজ মানুষেরা আশেপাশের থেকে নিজেরাই সংগ্রহ করেন। এছাড়াও বর্ষায় অরণ্যের বড় বড় গাছের ডাল, গুঁড়ি নদীর জলে ভেসে নেমে আসে ভাঁটির দিকে। ভাঁটিতে বসবাসকারী দেশজ মানুষেরা সেসব সংগ্রহ করে শুকিয়ে দরকার মত ঘর তৈরিতে কাজে লাগান।
এবার দেখে নেওয়া যাক ডুয়ার্সের দেশজ বাসগৃহের কাঠামো কিভাবে অরণ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়। আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমীবায়ুর গতিরোধকারী হিমালয়ের পাদদেশে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ডুয়ার্স এমনিতেই বৃষ্টিবহুল। তার ওপর অরণ্যের উপস্থিতির জন্য অরণ্য ও সন্নিহিত অঞ্চলে বৃষ্টি বাকি অঞ্চলের তুলনায় একটু বেশিই হয়।
ক্রমশ……
