ডা চন্দ্রগুপ্ত
ডেকার্স লেনের অফিস থেকে বেরিয়ে ফোন করলাম সুখময়দাকে। ফোনটা তিন চার বার রিং হওয়ার পরে বন্ধ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরে আবার চেষ্টা করলাম। এবার বলছে সুইচ অফ। বাধ্য হয়ে একাই শুভদার দোকানে চা খেতে ঢুকলাম। অফিস থেকে বেরিয়ে সুখময়দা আর আমি রোজ এক কাপ চা খেয়ে তারপরে মেট্রো ধরি।
আজ চায়ের ভাঁড় হাতে নিয়ে মোবাইলে দিকে তাকাতে টনক নড়লো। ছটা পঞ্চাশের মেট্রোটা বোধহয় আজকে ধরতে পারবো না। রোজ আমরা পরিচিত ছয়-সাতজন মেট্রোর প্রথম দিকের কামরার পিছন দিকে বসে আড্ডা মারতে মারতে একেবারে কবি নজরুল পৌঁছে যাই। আর সবাই ওই সময়ের ট্রেনটাই ধরি। তাই একটা পারিবারিক বন্ধন তৈরি হয়ে গিয়েছে সবাই তাদের মধ্যে। সুখময়দার সাথে ঘনিষ্ঠতার অন্যতম কারণ আমার শালী লীনা, সুখময়দার অফিসে চাকরি করে। কখনো কখনো ওর হাত দিয়ে দরকারি জিনিসপত্র বা কোনো কাগজপত্র পাঠিয়ে দেয় লীনা।
এসপ্লানেড মেট্রোর বাইরে ফলের দোকান গুলো ছাড়িয়ে সোজা দৌড় দিলাম মেট্রোর দিকে। আজকে একটা মিটিং চলছে ওয়াই রোডে। ফলে মেট্রো স্টেশনের গেটের সামনে বেশ ভিড় রয়েছে। যদিও অন্যান্য দিনেও বেশ কিছু অফিস ফেরত মানুষ কিছু সময়ের জন্য এখানে বসে চা সিগারেট খায়। অফিস থেকে বেরোতে দেরি হওয়ার জন্য ছটা পঞ্চাশের মেট্রোটা মিস করলাম।
ক্রমশ…..
