গার্গী সিনহা

১৪ তম পর্বের পর…..

সম্পদের অপচয় সেখানে হয় না, কারণ সে জানে অরণ্যই তার বর্তমান এবং ভবিষ্যত অস্তিত্বরক্ষার একমাত্র অবলম্বন, অরণ্যকে তাই সে শ্রদ্ধা সম্ভ্রমের চোখে দেখে। ঠিক এর বিপরীত অবস্থানে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও বাজারকেন্দ্রিক নগর-সভ্যতা যেখানে অরণ্য তথা প্রাকৃতিক পরিবেশ জীবনচর্যার একমাত্র অবলম্বন নয়, বরং তার একাধিক আকর্ষণীয় বিকল্প আছে। আধুনিক বাজার-সভ্যতা অরণ্যকে দেশজ মানুষদের মত জীবিকাসত্তাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখে না, দেখে উন্নয়মুখী বাজার-অর্থনীতির চোখে-আধুনিক গৃহনির্মাণসামগ্রীর কাঁচামালের উৎস হিসাবে কিংবা আবাসন বা নির্মাণশিল্পের সম্ভাব্য লাভজনক জমি হিসাবে। অরণ্যনিধন তাই আজ অবশ্যম্ভাবী ও স্বাভাবিক ঘটনা। গোটা বিশ্ব জুড়েই এই প্রবণতা তার হাজারো ক্ষতিকর দিক সত্ত্বেও একদিকে যেমন দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে, অন্যদিকে পরিবেশ তথা মানুষসহ জীবনজগত অস্তিত্বরক্ষার তাগিদে এর বিরোধিকার সুর চড়ানোর প্রক্রিয়াও কিন্তু ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ডুয়ার্সের দেশ বাসগৃহ ও ধারণ অরণ্যের সাথে তার উভয়মুখী সম্পর্কের আলোচিত বিষয়টি নিয়ে বাস্তব সম্মত চর্চার আশু প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়।

কৃতজ্ঞতায়: বঙ্গীয় ভূগোল মঞ্চ