ইমদাদুল হক

চতুর্থ পর্বের পর….

ফেলে যাওয়া রুমালখানী পর্ব ৪

জরি হাসলো। বাঁশবাগানে ভুত পেত্নি থাকে। তোমার ভয় করবে না?

আরে ধুৎ। ভুতে আমার বিশ্বাসই নেই! তোমার আছে?

না। আমি গ্রামকে গ্রাম হেঁটে বেড়াই, রাত বিরাতেও চলাফেরা, করি। কোনওদিন কিছু দেখিওনি, ভয়ও পাইনি। একটা বয়সে মানুষকেই ভয় পেতাম। মেয়েমানুষের কত রকমের ভয়! এখন প্রায় বুড়ি। কেউ ফিরেও তাকায় না। মানুষের ভয়ও কেটে গেছে।

ওরা দুজন হাঁটতে হাঁটতে বাগানের দিকে এলো। বাঁশবাগানের ওপাশে চাঁদ উঠেছে। তোলপাড় করা হাওয়াটা বইছে। উঠোনের দিক থেকে আসছে সন্ধ্যামালতির গন্ধ । অন্য পাখিদের কলকাকলি বন্ধ হয়েছে, ডাকছে শুধু কোকিল আর ঝিঁঝিপোকা। ঝোপঝাড় থেকে বেরিয়েছে জোনাকিরা। টিপ টিপ করে জ্বলছে।

জরি বলল, ও মৌ, তুমি যে নাটক থিয়েটার করতে ওসব এখন আর করো না?

মৌ হাসলো। নাটক থিয়েটার না, আমি করি আবৃত্তি। আমাদের একটা আবৃত্তির সংগঠন আছে। মাঝে মাঝে আবৃত্তির অনুষ্ঠান করি। অন্যরা অনেক কবির কবিতা আবৃত্তি করে, আমি করি শুধু রবীন্দ্রনাথের কবিতা। তাও একটু আনকমন কবিতা। যেসব কবিতা তেমন পড়া হয় না। সেবস কবিতায় একটু গল্প থাকে।

ক্রমশ…..