ইমদাদুল হক

ফেলে যাওয়া রুমাল খানি পর্ব ৮

অষ্টম পর্বের পর…..

কবিতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুহাতে মৌকে জড়িয়ে ধরে শিশুর মতো কাঁদতে লাগলো জরি। এ তুমি কোন কবিতা আমাকে শোনালে মৌ? এ তো আমাকে নিয়ে লেখা! সত্যি আমাকে নিয়ে লেখা। হুবহু আমার জীবন, আমার ঘটনা… এমনই তো ঘটেছিল আমার জীবনে। আমি তো সারাজীবন তার জন্য অমন করে বসে থাকলাম। সেও তো আমার কাছে পানি খেতেই এসেছিল।

মৌ ঠিক বুঝতে পারছে না তার এখন কী করা উচিত। কীভাবে থামাবে জরির কান্না, কীভাবে সামলাবে তাকে? এই ধরনের পরিস্থিতিতে কি যতক্ষণ ইচ্ছা কাঁদতে

দেওয়া ভালো? ধীরে ধীরে কান্না একসময় থেমে

আসবে, আপনা আপনিই স্বাভাবিক হবে মানুষটি। তখন

জানা যাবে ঘটনা।

ঠিক আছে, কাঁদুক জরি। যতক্ষণ ইচ্ছা কাঁদুক। কেঁদে কেঁদে হাল্কা করুক বুকের ভিতর চেপে রাখা বহু বছরের দুঃখ বেদনা।

অনেকক্ষণ কেঁদে থামলো জরি। আঁচলে চোখ মুছলো। গভীর করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তোমাকে খুবই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিলাম। কিছু মনে করো না। মাফ করে দিও আমাকে।

ক্রমশ…….