ইমদাদুল হক
ফেলে যাওয়া রুমালখানি পর্ব ১৪
১৪ তম পর্বের পর…..
আমার ভাইরাও বেরিয়ে এসেছে ঘর থেকে, মা বোনরা বেরিয়ে এসেছে। সবাই তটস্থ। তিনি শুধু বললেন, পানি খাবো। পানি দাও।
আমার ঘোর একটু যেন কেটেছে। দৌড়ে ঘরে ঢুকলাম। পিতলের বড় একটা গেলাস ছিল বাড়িতে সেই গেলাস ভরে পানি এনে দিলাম তাঁর হাতে। তিনি ঢক ঢক করে পুরো পানিটা খেলেন। গেলাস আমার হাতে ফিরত দিলেন কিন্তু একবারও আমার দিকে তাকিয়ে দেখলেন না।
বাড়ির সবাই জড়সড়ো। বাবা কাঁচুমাচু গলায় বললেন, একটু বসবেন সাহেব? একটু জিরিয়ে নেবেন? বন্দুক আর পাখিগুলো না হয়ে আমাকে দিন, আমি আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসি।
তিনি হাসিমুখে বললেন, দরকার নেই। আমি আজ একাই শিকারে বেরিয়েছিলাম। কোনও অসুবিধা নেই। একাই যেতে পারবো।
পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখ মুছলেন তিনি। ততক্ষণে অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে। আমি দাঁড়িয়ে আছি উঠোনের কোণে। তিনি একবারও আমার দিকে তাকালেন না, চলে গেলেন। আমার বাবা আর ভাইয়েরা কিছুদূর গেল তাঁর সঙ্গে। আমি দাঁড়িয়েই আছি। হঠাৎ দেখি বেড়ার ধারে তাঁর রুমালটা পড়ে আছে। দৌড়ে গিয়ে তুলেছি। অন্ধকারে তিনি অনেকদূর চলে গেছেন।
ক্রমশ……
