ওয়েব ডেস্ক; সৌম্যদীপ বেরা: নন্দলাল বসুর জন্ম তাঁর পিতার কর্মস্থল অধুনা বিহার রাজ্যের মুঙ্গের জেলার হাবেলী খড়্গপুরে। আদিবাস পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার হরিপাল-তারকেশ্বর সন্নিকটস্থ জেজুর গ্রাম৷

তাঁর বাবার নাম পূর্ণচন্দ্র বসু৷ মাতার নাম ক্ষেত্রমণি। ছেলেবেলা থেকেই তিনি প্রবল উৎসাহের সঙ্গে দেব-দেবীর মূর্তি সহ পুতুল তৈরি করতেন। কিন্তু পড়ালেখায় অমনোযোগ বরাবরই ।আর এই পড়ালেখায় অমনোযোগিতার কারণে এফ, এ পরীক্ষায় পর পর দুবার ফেল করতে হয় নন্দালাল কে । তখন কি আর জানতেন পরবর্তী কাল চিত্র ক্লার ইতিহাসে তাঁর নাম স্বর্ণখরে চাপা হবে । এ যেন ঐ “Failure Is The Pillar of Success ” সত্যি ভাবলেই অবাক লাগে । এফ, এ তে 2 বার ফেল করলেও পরে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহায্যে কলিকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তির সুযোগ পান চিত্রকর নন্দলাল । এখানকার ছাত্র থাকাকালীন তিনি কর্ণের সূর্যস্তব, গরুড়স্তম্ভতলে শ্রীচৈতন্য, কৈকেয়ী, শিবমতি, নৌবিহার প্রভৃতি ছবি এঁকে নিজের প্রতিভার বিস্তর পরিচয় দেন।

তিনি তার কর্মজীবনের শুরুতে পাটনা, রাজগির, বুদ্ধগয়া, বারাণসী, দিল্লী, আগ্রা, মথুরা, বৃন্দাবন, এলাহাবাদ ভ্রমণ করে উত্তর ভারতের শিল্প ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হন। প্রায় একই সময়ে পুরী থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত প্রায় সমগ্র দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ করেন এবং কোণারকের সূর্য মন্দির তাকে প্রভাবিত করে। ১৯২১ সালে তিনি বাঘ গুহার নষ্ট হয়ে যাওয়া চিত্রগুলি পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি ভগিনী নিবেদিতার হিন্দু-বৌদ্ধ পুরাকাহিনী বইটির অঙ্গসজ্জা করেন এবং ঠাকুর বাড়ির চিত্রকলার তালিকা তৈরিতেও সাহায্য করেন। ১৯১৬ সালে রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত বিচিত্রা সংঘে তিনি শিল্পকলার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৩৫-৩৭ সালে পর পর তিন বছর তিনি কংগ্রসের বার্ষিক সম্মেলনে শিল্প প্রদর্শনী ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৩৭ সালে অনুষ্ঠিত হরিপুরা সম্মেলনে তিনি লোকচিত্রের ধারাবাহী ৮৩টি পট প্রদর্শন করেন যা হরিপুরা পট নামে খ্যাত। ১৯৪৩ সালে তিনি বরোদার মহারাজের কীর্তিমন্দির অলঙ্কৃত করার দায়িত্ব লাভ করেন। এই কীর্তিমন্দিরের চারিদিকের এবং শ্রীনিকেতন ও শান্তিনিকেতনের দেয়ালচিত্র নন্দলাল বসুকে খ্যাতিমান করে তুলে। ভারতীয় সংবিধানের সচিত্র সংস্করণও নন্দলাল বসু অলংকৃত করেন। তার আঁকা ছোট ছোট ছবিগুলোতেও তার প্রতিভার এবং স্বাতন্ত্রের পরিচয় মেলে। শেষ জীবনে নন্দলাল বসু তুলি-কালি এবং ছাপচিত্রের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হন এবং এক্ষেত্রে সাফল্যের পরিচয় দেন। রবীন্দ্রনাথের সহজপাঠের ছবিগুলিও তার আঁকা। তার বিখ্যাত চিত্রগুলির মধ্যে অন্নপূর্ণা, সতী, দার্জিলিং প্রভৃতি উল্লেখ্য।
পুরস্কার ও সম্মাননা
১৯৫২ সালে বিশ্বভারতী তাকে দেশিকোত্তম উপাধিতে ভূষিত হন।
১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত করে।
১৯৫৬ সালে ললিত কলা একাডেমির দ্বিতীয় ফেলো নির্বাচিত হনI
মহান চিত্রকর ১৯৬৬ সালের ১৬ই এপ্রিল ৭৯ বছর বয়সে তিনি শান্তিনিকেতনে পরলোকগমন করেন। শিল্পি র কখনো মৃত্যু হয় না , পরলোকে গেলেও আজীবন তিনি বেঁচে থাকবেন তার শিল্প কর্মের মাধ্যমে।