ওয়েব ডেস্ক; ২৯ এপ্রিল: ভারতের জাতীয় সংরক্ষণাগার (এনএআই) হল ভারত সরকারের অতীতের দলিল দস্তাবেজ সংরক্ষণের তত্ত্বাবধায়ক। ১৯৯৩ সালে পাবলিক রেকর্ডস আইন অনুসারে প্রশাসক ও গবেষকদের ব্যবহারের জন্য এগুলি সংরক্ষিত রাখা হয়। একটি শীর্ষস্থানীয় সংরক্ষণাগার হিসেবে ভারতের জাতীয় সংরক্ষণাগার দেশে সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও এনএআই সমাজের সকল স্তরের বিশিষ্ট ভারতীয় যাঁরা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাঁদের ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করে।

এরই অঙ্গ হিসেবে ভারতের জাতীয় সংরক্ষণাগার আজ প্রয়াত ড. এ.পি.জে. আব্দুল কালামের ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আসল চিঠিপত্র, পাসপোর্ট, আধারকার্ড, প্যানকার্ড, ট্যুর রিপোর্ট এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থায় দেওয়া ড. কালামের বক্তৃতা। এই সংগ্রহে বেশ কয়েকটি আসল ছবিও রয়েছে। ড. কালামের নিকট আত্মীয় ড. এপিজেএম নাজেমা মারাইকায়ার এবং এপিজেএমজে শেখ সেলিম এই নথিগুলি এনএআই-কে দান করেছেন। এনএআই-এর মহানির্দেশক শ্রী অরুণ সিংহল এ বিষয়ে ড. এপিজেএম নাজেমা মারাইকায়ার-এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত করেন। অনুষ্ঠানে ড. কালামের একাধিক নিটক আত্মীয় উপস্থিত ছিলেন।

“ভারতের মিসাইল ম্যান” নামে পরিচিত ড. এ.পি.জে. আব্দুল কালাম (১৯৩১-২০১৫) একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এবং ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি (২০০২-২০০৭) ছিলেন। ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে একটি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণকারী ড. কালাম কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ়তার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। পদার্থ বিদ্যা ও মহাকাশ ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনা শেষ করে তিনি ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ১৯৯৮ সালে পোখরান-II পারমাণবিক পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ডিআরডিও এবং ইসরোর মধ্যে সংস্থাতেও কাজ করেছেন তিনি। ভারতের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ ক্ষেত্রে ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছিলেন তিনি। একাধিক সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন।

বিজ্ঞান ক্ষেত্রে অবদান রাখার পাশাপাশি ড. কালাম ভারতের যুব সমাজকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তিনি ‘উইংস অফ ফায়ার’, ‘ইগনাইটেড মাইন্ডস’ এবং ‘ইন্ডিয়া ২০২০’-র মতো বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। ‘জনগণের রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে পরিচিত ড. কালাম রাষ্ট্রপতিত্বের পর তরুণদের শিক্ষা ও পরামর্শ দানের জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ২০১৫ সালেল ২৭ জুলাই তিনি প্রয়াত হন।