ওয়েব ডেস্ক; ২৮ ফেব্রুয়ারি :
মূল বিষয়সমূহ

২০২৫–২৬ ভারতবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির প্রকৃত হার ৭.৬% অনুমান করা হয়েছে, যা ২০২৪–২৫ সালের ৭.১%-এর থেকে বেশি।

জিডিপি হিসাবের ভিত্তিবর্ষ ২০১১–১২ থেকে পরিবর্তন করে ২০২২–২৩ করা হয়েছে, যাতে ভারতের পরিবর্তিত অর্থনৈতিক কাঠামো আরও যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়।

নতুন জিডিপি ধারায় ASUSE, PLFS, GST, PFMS প্রভৃতি উন্নত ও নতুন তথ্যসূত্র অন্তর্ভুক্ত করে হিসাবের নির্ভুলতা বাড়ানো হয়েছে।

ভূমিকা

২০২২–২৩ ভিত্তিবর্ষে প্রস্তুত নতুন জিডিপি হিসাব অনুযায়ী ভারতের অর্থনৈতিক গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি ৭.৬% এবং নমিনাল জিডিপি বৃদ্ধি ৮.৬% হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। ত্রৈমাসিক তথ্যও এই ক্ষেত্রগুলিতে ধারাবাহিক উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পরিবর্তনশীল অর্থনীতির জন্য জিডিপি হিসাবের সংশোধন

মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন একটি দেশের অর্থনৈতিক আকার ও স্বাস্থ্যের প্রধান সূচক। নীতি নির্ধারণ, ব্যবসা পরিকল্পনা এবং আর্থিক সিদ্ধান্তে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিত্তিবর্ষ হালনাগাদ করার পাশাপাশি, উন্নত জরিপ পদ্ধতি এবং ক্ষেত্রভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আধুনিক করা হয়েছে, যাতে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও নির্ভরযোগ্য হয়।

ভিত্তিবর্ষের তাৎপর্য

ভিত্তিবর্ষ অর্থনীতির একটি নির্দিষ্ট সময়কে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে, যার ভিত্তিতে প্রকৃত বৃদ্ধি নির্ধারিত হয়। ২০২২–২৩-কে ভিত্তিবর্ষ হিসাবে গ্রহণ করায় সাম্প্রতিক কাঠামোগত পরিবর্তন ও মহামারির প্রভাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়াও, ত্রৈমাসিক জিডিপি সংক্রান্ত হিসাবের জন্য Benchmark-Indicator পদ্ধতি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা

ডিজিটাল অর্থনীতি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, ভোক্তা আচরণের পরিবর্তন এবং নতুন প্রযুক্তির বিকাশ অর্থনীতির কাঠামো বদলে দিয়েছে। নতুন তথ্যসূত্র—যেমন GST, PFMS, e-Vahan—ব্যবহার করে হিসাব আরও সুনির্দিষ্ট ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করা হয়েছে।

মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বিষয়ক হিসাব পদ্ধতির আধুনিকীকরণ

গৃহস্থালি ক্ষেত্রের পরিমাপন

ASUSE ও PLFS-এর মতো নিয়মিত জরিপ ব্যবস্থার ব্যবহার করে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হচ্ছে, যা আগের তুলনায় আরও নির্ভুল।

GST সংক্রান্ত তথ্য সংযোজন

GST ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষেত্রভিত্তিক উৎপাদন ও কর্পোরেট কার্যক্রম বিশ্লেষণ সহজ হয়েছে এবং ত্রৈমাসিক হিসাব ব্যবস্থাকে নির্ভুল করা হয়েছে।

e-Vahan ডেটাবেস

যানবাহন নিবন্ধনের তথ্য ব্যবহার করে পরিবহনসংক্রান্ত ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে।

PFMS তথ্য

সরকারি ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণে PFMS ব্যবহারের ফলে, কেন্দ্র ও রাজ্যের ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব আরও নির্ভুল হয়েছে।

সাম্প্রতিক গবেষণাগুলির অন্তর্ভুক্তিকরণ

কৃষি, মৎস্য, দুগ্ধ ও পরিবহন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণালব্ধ ফলাফল ব্যবহার করে হিসাবের মান উন্নত করা হয়েছে।

নতুন ধারায় পদ্ধতিগত উন্নতি

উন্নত মূল্যসূচক ব্যবহার করে ডিফ্লেশন পদ্ধতির উন্নয়ন করা হয়েছে

Supply and Use Tables (SUT) বা সরবরাহ ও ব্যবহার সংক্রান্ত তালিকা সংযোজনের মাধ্যমে হিসাবের সামঞ্জস্য বৃদ্ধি করা হয়েছে

সাম্প্রতিক জরিপের ভিত্তিতে নতুন অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে

বহুক্ষেত্রভিত্তিক সংস্থার মূল্য সংযোজন পৃথকভাবে হিসাব করা হয়েছে

ব্যক্তিগত ভোগব্যয় নির্ধারণে উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে

ক্ষেত্রভিত্তিক কভারেজের সম্প্রসারণ

নতুন কাঠামোতে ডিজিটাল অর্থনীতি, গিগ ইকোনমি, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক পরিষেবা এবং অনুষ্ঠান বহির্ভূত ক্ষেত্রগুলিকে উন্নত পদ্ধতির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, গৃহকর্মীদের পরিষেবাও হিসাবের আওতায় এসেছে।

সাধারণ সরকারি ক্ষেত্রগুলির হিসাব

কেন্দ্র, রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের বাজেট ও হিসাবের ভিত্তিতে সরকারি ব্যয় নির্ধারণ করা হচ্ছে। পেনশন, ভর্তুকি ও সামাজিক সুবিধা সংক্রান্ত হিসাবও উন্নত করা হয়েছে।

SUT-র মাধ্যমে বৈষম্য দূরীকরণ

Supply and Use Tables উৎপাদন ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপন করে পরিসংখ্যানগত বিভ্রান্তি কমিয়েছে এবং জিডিপি হিসাবকে আরও নির্ভুল করেছে।

GSDP সংক্রান্ত হিসাবের সামঞ্জস্য

রাজ্যগুলির জন্য একীভূত নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে Gross State Domestic Product বা মোট রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সংক্রান্ত হিসাব একই পদ্ধতিতে প্রস্তুত হয় এবং তুলনা করা সম্ভবপর হয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, CPI ও IIP-এর ভিত্তিবর্ষ হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং WPI পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি, Producer Price Index চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। অতীত তথ্যও পুনর্গণনা করা হবে যাতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

উপসংহার

সংশোধিত জিডিপি ধারাটি ভারতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী বৃদ্ধি এবং আধুনিক পরিসংখ্যান কাঠামোর প্রতিফলন। উন্নত তথ্যসূত্র, নতুন পদ্ধতি এবং বিস্তৃত ক্ষেত্রভিত্তিক কভারেজের মাধ্যমে এটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার আরও নির্ভরযোগ্য চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সহায়তা করতে চলেছে।