ওয়েব ডেস্ক; ২৬ মে : ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে ২৫ মে অনুষ্ঠিত প্রথম সিভিল ইনভেস্টিচার অনুষ্ঠানে (Civil Investiture Ceremony) দেশের ৬৬জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কার প্রদান করলেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দেশের উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে দুটি পদ্মবিভূষণ, ছয়টি পদ্মভূষণ এবং ৫৮টি পদ্মশ্রী পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সম্মানিতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যাঁরা শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, সংস্কৃতি এবং সমাজসেবার ক্ষেত্রে তাঁদের অসামান্য কৃতিত্বের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে ২০২৬ সালের জন্য রাষ্ট্রপতি পাঁচটি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী সহ মোট ১৩১টি পদ্ম পুরস্কারের অনুমোদন দিয়েছেন। পদ্মশ্রী প্রাপকদের মধ্যে ১১ জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। আজ তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে সম্মানিত করা হল। বাকি প্রাপকদের এই বছরেরই কোন একটি সময়ে সিভিল ইনভেস্টিচার অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সম্মানিত করা হবে।

আজ পশ্চিমবঙ্গ থেকে পুরস্কার প্রাপকদের মধ্যে ছিলেন বীরভূমের তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়।

তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় কাঁথা এমব্রয়ডারি বা নকশিকাঁথার মাধ্যমে লোকশিল্প ও নারী উদ্যোগপতি হওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য নজির গড়েছেন। তাঁর কাজ এবং বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগের মাধ্যমে ২০,০০০-এরও বেশি স্থানীয় নারীর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েজে, যা স্বনির্ভরতা ও জীবিকা সৃষ্টিকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি, বাংলার সমৃদ্ধ কাঁথা ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে সাহায্য করছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডঃ সরোজ মণ্ডলকেও পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করা হয়েছে।

কলকাতার একটি শীর্ষস্থানীয় মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালের সাথে যুক্ত প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ সরোজ মণ্ডল সহানুভূতির সাথে জটিল কার্ডিয়াক কেসগুলি পরিচালনা করার দক্ষতার জন্য পরিচিত। ডঃ মণ্ডল পেসমেকার এবং অন্যান্য কার্ডিয়াক ডিভাইস ইমপ্লান্টেশনে অনন্য অভিজ্ঞতার পাশাপাশি, কার্ডিয়াক ইমেজিং, কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন, করোনারি আর্টেরিওগ্রাফি এবং ইন্টারভেনশনে বিশেষজ্ঞ।

পশ্চিমবঙ্গের নাট্যজগতের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কে মরণোত্তর পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হয় আজ।

উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব এবং নাট্য কর্মী প্রয়াত হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কে নাটক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়েছে। ‘তিন বিজ্ঞানী’ এবং ‘গ্যালিলিও’-র মতো প্রশংসিত নাটক প্রযোজনার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে সমাদৃত ছিলেন, যা বাঙালি থিয়েটার এবং সামাজিক চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছিল।

কালিম্পং-এর সাহিত্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব গম্ভীর সিং ইয়োনজোন-কে দার্জিলিং পাহাড়ে শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক উন্নয়নে তাঁর আজীবন অবদানের জন্য পদ্মশ্রী দেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়ন, গ্রন্থাগার স্থাপন, প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গবেষণার প্রচার এবং শিশুদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সচেতনতা উৎসাহিত করার মাধ্যমে এই অঞ্চলে উচ্চ শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনি অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থাও করেছিলেন।

বাঙালি চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয় কয়েক দশক ধরে ভারতীয় সিনেমা এবং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য।

শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আজ ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তবলা বাদন কুমার বোস-কেও ২০২৬ সালের পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করা হয় ।

সমসাময়িক তবলা বাদকদের মধ্যে অন্যতম শ্রদ্ধেয় এবং বেনারস ঘরানার এক শীর্ষস্থানীয় প্রবক্তা বোস পরিবেশন, রচনা ও নির্দেশনার মাধ্যমে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

পদ্ম পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানগুলির অন্যতম, যা প্রতি বছর শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, সমাজসেবা, বিজ্ঞান এবং জনকল্যাণ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য ও বিশিষ্ট সেবার স্বীকৃতি হিসাবে পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী বিভাগে প্রদান করা হয়।