ওয়েব ডেস্ক; ৩০ মে: গত ২৬ মে কসৌলির নিকটবর্তী এলাকায় দাবানলের খবর পায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য অবিলম্বে একটি ‘চিতা’ হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। এরপর, ‘অসামরিক কর্তৃপক্ষকে সহায়তা’ কাঠামোর আওতায় হিমাচল প্রদেশের কসৌলির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া বিশাল দাবানল মোকাবিলার জন্য সফলভাবে Mi-17 V5 মাঝারি-ভারবহনকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়।

সোলান জেলার কসৌলির ‘বিট’ এলাকায় প্রায় ১০ হেক্টর জুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই তীব্র দাবানল আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক পরিকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য এক গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

রাজ্য প্রশাসন, রাজ্য বন দপ্তর, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ও তা নেভাতে একটানা ‘বাম্বি বাকেট’ অভিযান পরিচালনা করে। চণ্ডীগড়ের সুখনা হ্রদ থেকে জল সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি চক্করে হেলিকপ্টারগুলো প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ লিটার জল বহন করে নিয়ে যায়।

এই অভিযানে দিন-রাত অবিরাম আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণ প্রচেষ্টা চালানো হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ওপর ৯৩,০০০ লিটারেরও বেশি জল বর্ষণ করা হয়। এই দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপটি দাবানলকে একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের রূপ নেওয়া থেকে রুখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর ইতিহাসে এই প্রথম, ‘নাইট ভিশন গগলস’ ব্যবহার করে রাতেও সফলভাবে ‘বাম্বি বাকেট’ অভিযান পরিচালনা করা হলো। পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় এবং দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম, এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরিচালিত এই অভিযানগুলোর জন্য প্রয়োজন ছিল অসাধারণ উড়ান দক্ষতা, নিখুঁত কার্যপদ্ধতি এবং উচ্চমানের কৌশলগত পারদর্শিতা। রাতে অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের সঙ্গে জড়িত সহজাত ঝুঁকিগুলো থাকা সত্ত্বেও, বিমানকর্মীদের পেশাদারিত্ব, অদম্য সাহস এবং নিষ্ঠার সুবাদে এই অভিযানগুলো অত্যন্ত নিরাপদে ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

আকাশপথের এই অভিযানগুলোকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে, ভূমিতে কর্মরত কর্মীরা চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাঁরা দ্রুততম সময়ে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনরায় ওড়ার প্রস্তুতি নিশ্চিত করেছেন, যার ফলে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই নিরবচ্ছিন্নভাবে অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।