ওয়েব ডেস্ক; ২৯ জুন : কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের (MoSPI) অন্তর্গত জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর (NSO) এদিন কলকাতার অ্যান্থ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা নৃতত্ত্ব সমীক্ষা সংস্থা–য় ২০তম পরিসংখ্যান দিবস উদযাপন করে। অধ্যাপক প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল “Unlocking the Potential of Administrative Data”। প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং উন্নত শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রশাসনিক তথ্যের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এই অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় অধ্যাপক পি. সি. মহলানবিশের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে। এরপর প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের এন্টারপ্রাইজ সার্ভে ডিভিশনের উপ-মহাপরিচালক সঞ্জীব বসু স্বাগত ভাষণ দেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টোরেট জেনারেল অফ কমার্শিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্স (DGCI&S)–এর মহানির্দেশক কে. মানাও সিং। তিনি সময়োপযোগী, নির্ভরযোগ্য এবং নীতিনির্ধারণে সহায়ক সরকারি পরিসংখ্যান প্রস্তুতের জন্য প্রচলিত সমীক্ষাভিত্তিক তথ্যের সঙ্গে প্রশাসনিক তথ্যের সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমীক্ষা এখনও ভারতের পরিসংখ্যান ব্যবস্থার ভিত্তি হলেও, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রশাসনিক তথ্য একটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ পরিপূরক উৎস হয়ে উঠেছে।
অ্যান্থ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধিকর্তা ড. এম. শশী কুমার প্রমাণভিত্তিক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন তথ্য উৎসের কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
কারিগরি অধিবেশনগুলিতে প্রশাসনিক তথ্য ব্যবহারের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের হাউসহোল্ড সার্ভে ডিভিশন বা গৃহস্থালি সমীক্ষা বিডাগের উপ-পরিচালক শ্রী অর্ক মণ্ডল পরিসংখ্যানগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশাসনিক তথ্যের ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন এবং তথ্যের গুণমান, আন্তঃপরিচালনযোগ্যতা, মান নির্ধারণ এবং গোপনীয়তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলি তুলে ধরেন। এন্টারপ্রাইজ সার্ভে ডিভিশন বা উদ্যোগ সমীক্ষা বিভাগের অধিকর্তা শ্রেয়া সেনগুপ্ত জানান, কিভাবে প্রশাসনিক নথিপত্র ব্যবহার করে জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষাগুলি – বার্ষিক শিল্প সমীক্ষা (এএসআই), বার্ষিক অসংগঠিত শিল্প সমীক্ষা (এএসইউএসই) এবং সেবা ক্ষেত্রের উদ্যোগের বার্ষিক সমীক্ষা (ASISSE) – আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
বিশেষ বক্তৃতায় পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন অধিকর্তা ড. বিমল রায় উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রশাসনিক তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সমীক্ষার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে অধ্যাপক পি. সি. মহলানবিশের অগ্রণী অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“প্রশাসনিক তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান। তবে তা সবসময় বৈজ্ঞানিক পরিসংখ্যান পদ্ধতি ও মাঠপর্যায়ের সমীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য নীতিনির্ধারণ কেবল নথিভুক্ত সংখ্যার উপর নয়, বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের উপর নির্ভর করে।”
হিরাকুদ বাঁধ, দামোদর ভ্যালি প্রকল্প এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ–সংক্রান্ত ঐতিহাসিক উদাহরণ তুলে ধরে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, কিভাবে পরিসংখ্যানগত যাচাই প্রমাণভিত্তিক জননীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি যাচাই ছাড়া প্রশাসনিক তথ্যের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিরুদ্ধেও সতর্ক করে বলেন, সরকারি পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতার মূল ভিত্তি হল তথ্যের গুণমান।
এন্টারপ্রাইজ সার্ভে ডিভিশনের যুগ্ম-পরিচালক সুতপা ঘোষ ধন্যবাদজ্ঞাপন করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তিনি উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথি, বক্তা, অংশগ্রহণকারী এবং নৃতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থাকে অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
এই উদযাপনের মাধ্যমে জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর প্রশাসনিক তথ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি, দেশের সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় গুণমান, স্বচ্ছতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং বৈজ্ঞানিক কঠোরতা বজায় রাখার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
