সব্যসাচী

নিরাশ্রয়ের আশ্রয় মন্দিরতলা ১ম পর্ব

বাস্তবে এটি অসহায় মহিলাদের নিরাপদ আশ্রয়। তাদের মানসিক চিকিৎসার সাথে সাথে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য বিভিন্ন হাতের কাজ শেখানো হয়। এদের মধ্যে ঘর ফিরে যাওয়ার তীব্র বাসনা রয়েছে। কিন্তু তারা যে মহিলা। তাই ঘর ছেড়ে একবার বেরিয়ে আসার পর নিজেদের সংকীর্ণ মানসিকতার কারণে তাদের আত্মীয়স্বজনরা ফিরিয়ে নিতে চান না। সমাজও তাদের একটু তেড়ছা নজরে দেখেন । তাই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এটিই তাদের বাসস্থান। এখানে বেশ কিছুটা মানসিক সুস্থতা লাভ করার পর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় তেঘরিয়া অথবা ভাটপাড়ার অন্য দুটি শাখায়। সেখানে তারা নিজেদের হাতে ব্যাগ তৈরি করেন। চটের ব্যাগ, সুদৃশ্য এই ব্যাগগুলো শুধু তৈরি হতে থাকে। কিন্তু তার বিক্রির কোন ব্যবস্থা নেই। কখনো কখনো কোন সহৃদয় ব্যক্তি হয়তো কিনে নিয়ে যান। তাতে তাদের শিল্পকর্মের মর্যাদা যেমন হয়, সেই সাথে কিছু আর্থিক সুরাহাও হয়।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই জীবনতলা অঞ্চল যেখানে একসময় ছিল ধানক্ষেত। বাস্তবিক এখানে জমিগুলো এক ফসলী জমি আর তার কারণেই বোধহয় আইনি বা বেআইনি পথে জমিগুলোর চরিত্র বদলে দিয়ে সেখানে তৈরি হয়েছে ভেরি। আর ভেরি যখন তৈরি হয়েছে তখন সেখানে দালাল বা গুন্ডা চক্র থাকবেই ।তারাও এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে না এসে কিভাবে কিছু উপার্জন করা যায় এখান থেকে তার চেষ্টায় রত । যদিও স্থানীয় প্রশাসন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই অসহায় মহিলাদের, যারা ভবঘুরের মত পথে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয় যারা নিয়ে এসেছেন, শুধুমাত্র সমাজের কিছু মানুষকে ভাল রাখবেন, তাদের মাথার উপরে ছাদ খুঁজে দেবেন, অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেবেন, নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবেন, তাদের জন্য কিন্তু সমাজের সব মানুষদের এগিয়ে আসা উচিত। অন্ততপক্ষে এদের তৈরি জিনিসগুলো আমাদের ঘরে-বাইরে প্রয়োজনে লাগে । যেন আমরা কিনে নিতে পারি তার চেষ্টা করা যেতে পারে । সবাই আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন করতে না ও পারি। অথবা তাদের সাথে যুক্ত না ও হতে পারি। কিন্তু তাদের এই কর্মকাণ্ড আংশিক সহযোগিতা তো করতেই পারি?
প্রশ্ন আপনাদের কাছে। যদি উত্তর খুঁজে পান তবে আংশিক সহযোগিতার হাত বাড়াতে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা তো হাত বাড়িয়েছি, শুভাবরির সামাজিক প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে এই মহিলাদের জন্যে কিছু হাতের কাজে যদি বিনিয়োগ করা যায় তার চেষ্টা আমরা করছি। আপনারা ভাবুন, আপনারাও কিছু করবেন কিনা।