তরুনার্ক লাহা

সাকুল্যে ১৫০০ টাকা। রিক্তার তিলতিল করে জমানো টাকা। সুজয়ের লক্ষ্মীর ভান্ডার এটি। রিক্তা হাসিমুখেই তুলে দেয় টাকাটা। এই কটা দিন সুজয়ের হাত একেবারে খালি। লকডাউনের জন্য কাজটাও চলে গেছে। দিনরাত পাগল পাগল লাগে। পুরুষ মানুষের হাতে টাকা না থাকলে হীনমন্যতা চেপে বসে।

বাজারে প্রচুর ধার। কত আর মুখ বাঁচিয়ে চলবে? পথে বের হলেই ভয়, যদি কোনো উত্তমর্ণের সাথে মুখোমুখি হয়ে যায়। দুটো কথা শুনে হজম করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। মাঝে মাঝে মনে হয় বাড়ির সব কিছু বেচে দিয়ে ধার দেনা শোধ করে দেয়। কিন্তু রিক্তার ভয়ে পারে না। বিয়ের পর থেকে তাকে কিছুই দিতে পারে নি। তা নিয়ে অভিমান করলেও অভিযোগ করে নি। এরপর সে যদি ঘরের জিনিসে হাত দেয় ব্যাপারটা বড্ড বেমানান লাগবে।

হাতে যেহেতু কোনো কাজ নেই এই জমানো টাকা দিয়ে যদি কিছু করা যায়। এটা ভাবতে

ভাবতে বদড়ার মাঠে এক কোণে বসে থাকে। হঠাৎ লক্ষ্য করে জনা কতক লোক তার থেকে

কিছুটা দূরে কি যেন খেলছে। তাস হবে কি? হতেও পারে, কিন্তু উত্তেজনা চরমে। নজরে পড়ল একটা লোকের হাতে তিনটে বড় বড় চেপ্টা ঘুটি। হাতের কেরামতি দেখিয়ে হাঁকছে-পাঁচশ’তে পনেরশ, হাজারে তিন হাজার। কৌতুহলী সুজয় সামনে এগিয়ে আসে। বেশ কিছুক্ষণ লক্ষ্য করে খেলাটা। বাঃ

বেশ সহজ খেলা তো!