শ্রী সমিরেশ্বর ব্রহ্মচারী
জগতে আকর্ষণ যদি কিছু না থাকে তাতে মানুষ আকর্ষিত হবে কেন? কৃষ্ণ তিনি কর্ষণ করেন, তিনি আকর্ষণ করেন। তাই তো তিনি সর্বাকর্ষক। আকর্ষণ করার মধ্যে আছে ঐশ্বৰ্য্য, বীর্য, শ্রী,যশ, জ্ঞান, বৈরাগ্য এই ছয়টি গুণ। এই ছয়টি গুণ যার মধ্যে বিরাজ করে তিনিই আকর্ষণ করেন। আবার আমরা দেখতে পাই আমাদের সমাজে যারা উচ্চমার্গে আছেন, যে অর্থবান, তাঁর প্রতি যারা অর্থ পিপাসু তারা ছুটছেন। যারা জ্ঞানবান, বিদ্যালাভের জন্য লোকজন তাদের কাছে ছুটছেন। যিনি শক্তিমান, তার সেই শক্তির পিছনে বহু মানুষ ছুটছেন। তাই জগতে সবাই আমরা এক একটা শক্তির পিছনে ছুটছি, আকর্ষণের দিকে ছুটছি। কিন্তু আমার চৈতন্য মহাপ্রভু এই সবগুণগুলির মধ্যেই আছেন। তিনি জ্ঞানবান, তিনি রূপবান, তিনি ঐশ্বর্যবান, তিনি সমস্ত বান নিয়েই আছেন— তাই তিনি ভগবান। জগতের সব ঐশ্বর্য তার মধ্যে আছে। তাই আমরা তার কাছে ছুটে যাই।
একজন মায়ের সংসার ছেলেমেয়েকে নিয়ে। ছেলে ভাবে মা তাকে ছেড়ে চলে যায়, মাকে কাছে পায়না। মা ছেলেকে বলছে- ওরে তুই যখন ঘুমাস তখন আমি তোকে ছেড়ে যাই বটে কিন্তু এক ঘরেই থাকি। আমি ঘরে গিয়ে তোরই রান্নাটা তৈরি করি তোকে খাওয়াবার জন্য। তেমনি শ্রীভগবানও আমাদের থেকে দূরে থাকেন কিন্তু তিনি আমাদের অর্থাৎ জগৎ কল্যাণের জন্যই ব্যস্ত থাকেন। আমরা অচেতন হয়ে ঘুমাই, কিন্তু যখন আমরা চেতন হয়ে তাঁর কাছে যাই। তখন তিনি আমাদের জড়িয়ে ধরেন। তিনি আমাদের জন্য। এই যা কিছু আয়োজন আছে সবই তাঁকে নিবেদন করার জন্য। সব তাঁর। কিন্তু তাকে আজ পর্যন্ত নিবেদন করতে পেরেছি কি? করিনি, পারিনি। আমরা তাকে নিবেদন করতে গেলে একটু যেন কৃপণ হয়ে যাই।
ভগবান ঠিক একটি সংসারের মা। সংসারে যেমন ছেলে বায়না ধরেছে, মা একটা চকোলেট কিনে দাও। মা চকোলেট কিনে দিলো। মার হাতে তো টাকা পয়সা আছে। ইচ্ছে করলে নিজের জন্যও চকোলেট কিনতে পারতেন। কিন্তু কিনলেন না। ছেলেকেই কেবল চকোলেট দিলেন। চকোলেট পেয়ে ছেলে খুব খুশি। আমাদের যেমন এটা দাও – ওটা দাও। যেই পেয়ে যাই অমনি আনন্দে থাকি। এবার কিছুক্ষণ পরে মা ছেলেকে বলছে- বাবা, আমায় একটু চকোলেট দে, একটু দেনা। ছেলে অভিমানী। না এটা আমার। দেবো না। মাও নাছোড়বান্দা। মাও ছাড়বেন না। এক সময় মা সোহাগে জড়িয়ে ধরে ছেলেকে বললেন- দে বাবা আমায় একটু দেন…. দে। ছেলে তাচ্ছিল্যভরে লোল-ঝোল মাখানো চকোলেটের একটুখানি টুকরো মুখের থেকে বের করে মার মুখে যেই দিতে গেল, অমনি মা ছেলেকেজড়িয়ে ধরে বললেন— না বাবা, তুমি খাও। আমি চাই না। অর্থাৎ মার কাছে টাকা আছে, চাইলেই অনেক চকোলেট কিনে খেতে পারেন। কিন্তু মা কেবল ছেলের ইচ্ছেটুকু খেতে চান। আর কিছু না। খালি ইচ্ছে টুকু চান। তেমনি ভগবানও আমাদের থেকে আর কিছু চান না, কেবল ভালোবাসা, সোহাগের ইচ্ছে টুকুই চান।
চলবে…..
