মাসুদ করিম (বাংলাদেশ)
দ্বিতীয় পর্বের পর…..
ভাল সম্পর্ককেও পরিচর্যা করতে হয়। আমাদের অভিন্ন সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সম্পর্কের যত শাখা-প্রশাখা আছে; তার পরিচর্যা করা আমাদের দুই দেশের জনগণের দায়িত্ব। বিশ্বব্যাপি মহামারীর কারণে আমাদের জনগণের মধ্যে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ ছিল। এখন বাবল এয়ার চালু হচ্ছে। মহামারী শেষ হলে আমরা সবাই একপথে হাঁটব। উন্নয়ন, অগ্রগতি, বিকাশ ঘটাব এক সঙ্গে।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসবে অংশ নিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার অপর নেতারাও এসেছিলেন। অমিত সম্ভাবনার আকাশকে উন্মুক্ত করতে আমাদের অঞ্চলে কিছু বাঁধা অবশ্যই আছে। রোহিঙ্গা সংকট তার অন্যতম। মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের নিরাপদে ফেরত পাঠানোতে সহায়তা করতে ভারত বদ্ধপরিকর। কারণ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অভিন্ন বন্ধু হলো ভারত। আমরা উভয়ে পূর্বের জানালা খুলতে চাই। পূর্বের জানালা ছাড়া গৃহে আলো প্রবেশ করতে পারে না।
আমি যতবার ভারত গেছি ততবারই মুগ্ধ হয়ে তার বৈচিত্র্যপূর্ণ সৌন্দর্যে অবগাহন করেছি। হিন্দু, মুসলমান, শিখ সবার বৈচিত্রের মধ্যে একতা দেখেছি। বাংলাদেশেও আমরা দূর্গাপূজা, ঈদ, পহেলা বৈশাখ একত্রে উদযাপন করি। ভারতের মানুষকে আমার খুব আপন মনে হয় । দুনিয়ার পূর্ব-পশ্চিমে সর্ষে ইলিশ, রবীন্দ্র সঙ্গীত, সমৃদ্ধ লোক সঙ্গীত আমাদেরকে অভিন্ন এক রাখি বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে। অমূল্য সেই ভালবাসা, অমূল্য সেই আবেগ। কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী আমাদের প্রেমে ঘৃণার ছায়া ফেলতে তৎপর। কিন্তু মানুষের ভালবাসার অসীম শক্তির কাছে তা খুবই তুচ্ছ। মানুষের ভালবাসার জয় হোক। আমাদের দুই পড়শি জনগণের রক্তের অক্ষরে লেখা বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হোক।
মাসুদ করিম : বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত যুগান্তর পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক
সমাপ্ত ……
