শ্রেয়া ঘোষাল
প্রথম পর্বের পর…….
লিটল ম্যাগের প্যাভেলিয়নের পাশে ছোট গলি মতো, সেখানেই এক সারি স্টল ঘুরে অন্য সারিতে যাবার পথে দেখতে পেলাম ওকে। চুপচাপ বসেছিল। যতটা সম্ভব গুটিসুটি মেরে। নিজেকে যতটা লুকিয়ে রাখা যায়। কালোর ওপর হ্যালোজেনের আলো পড়েছে। গাটা রুপোলি চাঁদের মতো চকচক করছে। কাছে যেতে সাহস পাচ্ছিলাম না। আমাকে দেখে, কিছুদুর থেকে গন্ধ পেয়ে যদি পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাবেই। পাথরের মতো দাঁড়িয়ে নজরবন্দি করার চেষ্টায়। যে রকম বলে দিয়েছেন ওঁরা। ওর জন্ম থেকে যতটা দিয়েছি সবটুকু জমিয়ে ফেলতে হবে। ঘন হতে হতে যখন একটা পিণ্ডের মতো, অদৃশ্য সেই পিণ্ড ছুঁড়ে দিতে হবে ওকে নিশানা করে। অব্যর্থ যদি হয় ভালোবাসা, ফিরে আসবেই। একটা একটা করে পুরোন ঘটনাগুলো টেনে বার করছিলাম। গাড়িটা ওকে চাপা দিয়ে তীর বেগে চলে যাচ্ছে, আর ছোট্ট শরীরটা রক্তে ভেসে যাচ্ছে। আমি পাগলের মতো ট্যাক্সি ডাকছি।
একজনও থামছেনা। আমি ফোন করে যাচ্ছি এই ডাক্তার, সেই ডাক্তার, কম্পাউন্ডার, অ্যাম্বুলেন্স। একটা পা একটু ছোট কমজোরী থেকেই গেল। পায়ে পায়ে কখন এগিয়ে এসেছি। আস্তে করে ডাকলাম, নাড়ুরে। কি ক্লান্ত চোখগুলো মাথার কাছে শুকিয়ে যাওয়া রক্ত। ঢিল মেরেছে কেউ। উঠে দাঁড়াতে দেখি ছেলে আর বুড়ো। ফিসফিস করে জিগ্যেস করলাম নাড়ুকে দেখেছিস? আমার নাড়ুকে? ছোট বেবী, একবছরও পেরোনি তোর মতই মুখের আদল। কাতর চোখটা তুলে তা কালো, খিদে পেয়েছে? দাঁড়া। যাবে আর আসবো। এখানেই থাক, কথা আছে জরুরি।
চিকেন পকোড়া নিয়ে এসে দেখি চলে গেছে কোথায়। চোখ বন্ধ করে নাড়ুর মুখটা ভাবতে চেষ্টা করলাম, যেমন শিখিয়ে দিয়েছেন ওঁরা। বইমেলার মাঠে সন্ধের ভীড় জমে উঠেছে। লোকজন, অ্যানাউন্সমেন্ট। সব দূরে পাঠিয়ে দিচ্ছি। সব শব্দ, হাওয়া, ধুলো। প্রথমে শুধু অন্ধকার ভাবতে হবে। তারপর নাড়ুর মুখটা ফুটিয়ে তুলতে হবে। মুখটা ভেসে উঠলেই আস্তে আস্তে শরীর, কাঁধ আসছেন। বদলে ফুটে উঠেছে ভয়ঙ্কর তিন মাথাওয়ালা অ্যানাবিসের আদল।
ঘেমে উঠছি, বুকটা ধকধক করছে। ওঁরা বলে দিয়েছেন এ রকম হলে ছেড়ে দিতে। আরও শান্ত হয়ে আরও নিবিড় মনঃসংযোগ করতে হবে। সেটুকু করতে পারলেই আমার ভাবনা পড়তে পারবে নাড়ু। আমি খুঁজে পাবো ওকে।
ক্রমশ …….
