ডা. চন্দ্রগুপ্ত

মৃন্ময় কয়াল কলেজের সামনে দিয়ে হেঁটে আসলে মাত্র দুশো মিটার দূরে পার্টির জোনাল অফিস। ডিসেম্বরের সকালে এই রাস্তায় হাঁটতে আজ প্রণব বসুর অন্যদিনের তুলনায় যেন বেশি সময় লাগছে। নিজে বুঝতে পারছেন যে ওজনটা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। কিন্তু দশটার মধ্যে পার্টি অফিসে হাজির হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

রোজকার মত গায়ে শাল না জড়িয়ে খদ্দরের জ্যাকেটটা গায়ে চড়িয়েছেন প্রণবদা—প্রণব বসু। পরনে সরু পাড়ের ধুতি, মোজা ছাড়া কালো পাংশুটা নিত্য পালিস করার জন্যে চমকাচ্ছে।

যদিও পোশাক অথবা মিটিংয়ে হাজিরা দেওয়া, না দেওয়া এ সবের দায়িত্বে আছে সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গী কানাই। খাবারের দায়িত্ব ও কানাইএর। প্রণবদার মতো সেও হোলটাইমার। তবে পার্থক্য হল প্রণবদা অকৃতদার, আর কানাই দুই বাচ্চার বাবা।

অন্যদিনের মতো কানাই ‘বস’-এর ঠিক দু’ফুট দূর থেকে প্রণব বসুর লেদারের ব্যাগ নিয়ে হেঁটে আসছে। ও জানে প্রণবদার মাথায় এখন বিরাট চাপ। তাই হাঁটতে হাঁটতেও উনি চিন্তা করে যাচ্ছেন।

আজ পথ চলতি মানুষের সম্ভাষণেও উত্তর দিচ্ছেন না প্রণবদা। এমনিতে উনি রাশভারি মানুষ। কথাও কম বলেন। তবে পার্টির চাটুকারদের এড়ানোর জন্যে কানাই বছর খানেক আগে প্রণবদাকে ছদ্ম গাম্ভির্য আনতে বলেছিল। কাজও হয়েছে, অযাচিতকর্মীদের সৌজন্য প্রদর্শন কমে গিয়েছে।

আজ সমস্ত জোনাল অফিসগুলোতে জেলা অফিস—’ইলম ভবনের সিদ্ধান্ত পৌঁছে দিতে হবে। জেলা স্তরের নেতা প্রণব বসুকে এ দায়িত্ব দিয়েছে দল।

ক্রমশ…….