ডা চন্দ্রগুপ্ত

দশম পর্বের পর…….

পার্টি অফিসের ভেতরে তখন পিন্‌ ড্রপ সায়লেন্স। প্রণব বসু তার পরিকল্পনা শোনাচ্ছেন: শ্রেয়া, বৈশাখী মোড়ে টিউশন পড়তে যায়। রৌনকও যায়। বাড়িটার সামনে সাদা বেগনভেলিয়া গাছ আছে, ১৭নং বাড়ি। টিউশন থাকে সোম-বুধ এবং শনিবার। সন্ধ্যে ৭টায় ওরা বেড়িয়ে আসে।—দ্বীজ দাস, আমাদের ছেলেরা যেন ওর কাছেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। বি কেয়ারফুল ছাত্রদলের আরো চারজন ছেলে মেয়েও পড়তে যায় ওখানে। সামনের বুধবার শ্রেয়া পড়তে ঢুকছে কনফার্ম করবে স্বপন বল।

কথাগুলো কেটে কেটে বলে প্রণব বসু একটু থামল। তারপর সামনে বসা এক নেতার উদ্দেশ্যে বলল, ‘তুমি কি লিখছ দেখি?’ ততক্ষণে কানাই ঐ নেতার হাত থেকে ডাইরীটা কেড়ে প্রণব বসুর সামনে হাজির করেছে।

এক ঝলক দেখে প্রণব বসু নেতাকে ঠান্ডা গলায় বলল, এগুলো লিখছ কেন? মিডিয়াকে দেবে? নাকি প্রণব বসুর কথা রেকর্ড করে রাখছ?

বাঁ হাতে কানাইয়ের হাতে দিয়ে দেয় ডাইরিটা। কানাই জানে ওকে এখন কি করতে হবে। দ্রুত ঐ পৃষ্ঠাটা ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিল। ততক্ষণে ঐ মাতব্বর নেতা শীতের দিনেও ঘামতে শুরু করেছে। ওর পাশে বাসা স্বপন বল আর দ্বীজদাস ব্যানার্জী এ অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে বেড়িয়ে আসার জন্যে প্রসঙ্গ ঘোরালো। ‘প্রণবদা, মৃন্ময় কয়াল কি হাত ছাড়া হয়ে যাবে! হাবুল তো এখনো কোন স্টেপ্ নিতেই পারেনি।’ স্বপনের কথা প্রণব বসুর কানে ঢুকল বলে মনে হল না। কাউকে পাত্তা না দেবার একটি বিশেষ প্রক্রিয়া হল প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দেওয়া। দাম্ভিক এবং স্বৈরাচারী প্রণব বসু এই অস্ত্রই হামেশা ব্যবহার করেন।

ক্রমশ……