বাসবদত্তা

দ্বিতীয় পর্বের পর…..

একটা ঘটনায়, কলকাতার বাড়ির পরিবেশটা কীরকম দমবন্ধ করা হয়ে গেল। নীলাদ্রি কলকাতা ছেড়ে ইন্ডিয়ার মেডিকেল হাব চেন্নাইতে রিলোকেট করল।গত তিন বছরে, অনেক চিকিৎসা, অনেক ডাক্তার। এখন সব ডাক্তারদেরই বক্তব্য প্রায় এক -এখনো সেই ধাক্কাটা ওর পায়ে লেগে নেই, পা সেরে গেছে।

ধাক্কাটা লেগে আছে অন্য কোথাও। হাঁটাতেই হবে ওকে, দরকারে জোর করতে হবে, নির্দয় হতে হবে ওর সাথে। মা বাবা যেভাবে পারে কোনো ডাক্তার সেভাবে পারে না। ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পারতে হবে আপনাদেরই।সকাল থেকেই বিভিন্ন কাজের ফাঁকে চোখ চলে যায় বাড়ির পিছনের অগোছালো বাগানটাতে। বাড়ি খোঁজার সময় এবাড়িতে এসে পিছনের বারান্দায় গিয়েই আবিস্কার করেছিল চারপাশের হাইরাইস গুলোর মাঝে একটুকরো সবুজের আশীর্বাদ। ব্যাস বাড়ি পছন্দ হয়ে গেল তৃণার।

নাহলে সেই একটা বা দুটো বেডরুম, লিভিং, ডাইনিং আর কিচেন। সব ফ্ল্যাটগুলোই তো কী ভীষণ একইরকম।এ বাড়িটার পিছনে কেন্দ্রীয় সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দকৃত এক বিশাল জায়গা, পরে আছে অযত্নে অবহেলায়। রয়েছে যেমন তেমন বেড়ে ওঠা বেশ কিছু গাছ, আর লম্বা ঘাসজমি, একটা পুকুর। বেশ খানিক দূরে একটা একতলা বাড়ি। হয়ত বা ওটাই ওদের অফিস। আর আছে টুলে বসা লাঠি হাতে এক বুড়ো ওয়াচম্যান ঐ একতলা বাড়িটার সামনে।

পড়াশোনার ফাঁক ফোঁকরে মায়ের মত ছেলে বিতানও তাকিয়ে থাকে লম্বা ঘাসের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে থাকা বড় বড় গাছগুলোর দিকে।

ক্রমশ…….