বাসবদত্তা
পঞ্চম পর্বের পর……
আজো চলছে মা ছানার খেলা। বেশ জোরে ধাক্কা মারে মা। কাত হয়েও সোজা হয়ে
বসে ছানা আবার। বলেছি ত আমি এখন উড়ব না।
আজকাল তৃণার রাতে ভালো ঘুম হয় না। ভোর হবে কখন এই অপেক্ষায়। ছানা আর মায়ের আজ কি হয় কে জানে! ঘুম থেকে উঠেই পিছনের কাঠবাদাম গাছটা একবার দেখে নেয়। নীলাদ্রি এ সমস্ত থেকে শত হস্ত দূরে বাস করে। ওর জীবনটা আদর্শ সিএ র ডেবিট ক্রেডিটে বাঁধা ব্যালেন্স সীট।
হানিমুনে গিয়ে নায়েগ্রার আকাশে দুখানা রামধনু একসাথে দেখে তৃণা যখন আহ্লাদে আটখানা, নীলাদ্রি তখন বোকামি করে লঞ্চের দোতলায় দাঁড়িয়ে জামা কাপড় ভিজে যাওয়ায় অত্যন্ত বিরক্ত। তখন অবাক হতো। খুব কষ্ট হতো তৃণার। শেয়ার না করতে
পারার কষ্টটা বিধৃত। ধীরে ধীরে সবারই সব সয়ে যায়। তৃণারও সয়ে গেছে। টেনসন হচ্ছে তৃণার আজকাল। বাচ্চাটা উড়তে শিখবে কবে! পাখির ছানা না উড়লে খাবে কি? বাঁচবেই তো না। শ্রীমতি আজ সকাল থেকেই অনেক শান্ত। ও বোধহয় মেনেই নিয়েছে ওর ছানা আর
উড়তে শিখবে না। আহারে! এভাবে মন খারাপ করিস না শ্রীমতি, আরেকটু সময় দে বাছাকে
তোর। প্রচন্ড আর্তনাদে, চমকে তাকিয়ে দেখে এক মুহূর্ত, ছানাটা একটু অন্যমনস্ক হয়েছিল বুঝি, শ্রীমতি ঘূর্ণীর মত বেগে এসে মেরেছে এক ধাক্কা। হি—-পড়ে যাচ্ছে বাচ্চাটা, নীচে পড়লেই মরে যাবে অটুকুন ছানা। শ্রীমতি, এত
নিঠুর তুই। রাগে কাঁপতে থাকে তৃণা। আর পারে না। চোখটা বন্ধ করে বিতানের হুইলচেয়ারের হাতল চেপে ধরে ও। চোখটা বন্ধ রাখতে পারে কই। খুলে যায়। খুলতেই হয়। মরেই গেছে এতক্ষণে। সে নিশ্চিত। আহ! এ-কি! খুলে যাচ্ছে ছোট্ট ডানা দুটো। ঝাপটাচ্ছে, ঝাপটাচ্ছে! ছোট্ট সে বায়স বাঁক নিলো আকাশের পথে।
হুইলচেয়ারের হাতলটা ছেড়ে এক পা এক পা করে তৃণা এগিয়ে যায় সামনের দিকে। বিতান একমনে গাছপালা দেখছে। নিজের মনেই সে যুদ্ধ করতে থাকে নিজের সাথে। এটাই কি সময় নয় একটা মোক্ষম থাকার জন্য? ডাক্তারবাবুরা বলেছিলেন ওকে হাঁটাতে আপনারাই পারেন।
