ওয়েব ডেস্ক; ৩০ জানুয়ারি : মাধ্যমিক বা যেকোনো (Higher Secondary) পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের উল্লেখযোগ্য শারীরবৃত্তীয় এবং মানসিক পরিবর্তন আসে। যেমন—মানসিক চাপ বৃদ্ধি, ঘুমের ধরনের পরিবর্তন, শারীরিক কর্মক্ষমতা নিয়মিত হ্রাস এবং খাদ্যভ্যাসের নিদিষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়।

উচ্চ মানসিক চাপের কারণে বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ হতে থাকে যা ক্ষুধা বাড়াতে পারে, যার ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি যুক্ত, চিনিযুক্ত এবং উচ্চ চর্বিযুক্ত ভাজাপুজি বা Packet Snacks (লবণযুক্ত ও ফ্যাটযুক্ত) খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এর ফলে GI Tract-এ বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। গবেষণায় দেখা যায় পরীক্ষার সময় সঠিক খাদ্যাভ্যাস নয় ও Stress এবং Sedentary lifestyle শরীরের চর্বি বৃদ্ধিতে এবং Muscle কে কমিয়ে দেয় এবং কিছু Vitamin ও Mineral-এর ঘাটতিও দেখা যায়। যেমন: Vit C, B5, B6, Zinc, Mg, K+ যেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্রেনের কার্যকারিতা ও Memory-র জন্য।
খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত পরামর্শ:

  • পরীক্ষার সময়ে একেবারে অনেকটা খাবার না খেয়ে বারে বারে ভাগ করে খাওয়া উচিত।
  • প্রাতঃরাশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যই সেটা সময় অনুযায়ী খাওয়া উচিত। কারণ Glucose হলো ব্রেনের শক্তির উৎস (Energy source), যা কার্যকারিতার জন্য খুব প্রয়োজনীয়।
  • প্রাতঃরাশ, দুপুর (Lunch) ও রাতের খাবারের (Dinner) ছাড়া Snacking-এ মাঝে মাঝে রাখতে হবে Omega 3 fatty acids সমৃদ্ধ বিভিন্ন Nuts & Seeds।
  • ফল অতি অবশ্যই খেতে হবে। কলা (Anti-stress fruit) এতে পটাশিয়াম (K+) থাকে। বেরি জাতীয় ফলে Antioxidant (Anthocyanin) থাকে যা Brain function-এ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।
  • এছাড়াও আমলকী, লেবুর রস খাওয়া যেতে পারে। Avocado রাখা যেতে পারে যা Gut ও Brain Connection ভালো রাখে।
  • বাইরের খাবার, ভাজাপুজি, Packet Snacks, Restaurant food এবং Junk & Fast food একেবারেই চলবে না।
  • অতিরিক্ত Cold drinks বা Soft drinks খাওয়া উচিত নয়। এতে পেটের সমস্যা হতে পারে।
  • জল খাওয়া খুবই দরকার। শরীরের Hydration ঠিক রাখার জন্য ৮-৯ গ্লাস জল খেতেই হবে। এছাড়া লেবুর জল, ডাবের জল, স্যুপ, লস্যি বা চা খাওয়া যেতে পারে। তবে কফি বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।
  • বাড়িতে রান্না করা সহজপাচ্য খাবার খাওয়াই শ্রেয়, যা সহজে হজম হয় এবং বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরে এনার্জি দেয়।
  • প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন—মাছ, ডিম, দুধ, দই অবশ্যই রাখতে হবে। যদি দুধ সহ্য না হয় তবে দুধ জাতীয় খাবার এড়াতে হবে, না হলে পেটে হজমের সমস্যা, পেট ব্যথা বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
    জীবনযাত্রা ও মানসিক স্বাস্থ্য:
  • স্মৃতিশক্তি সুদৃঢ় করার জন্য উন্নত মানের ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারা রাত জেগে না পড়ে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টার গভীর ঘুম প্রয়োজন।
  • যদি অতিরিক্ত টেনশন বা উদ্বেগ বাড়তে থাকে, তবে আইসক্রিম একটি স্বল্পমেয়াদি ‘মেজাজ পরিবর্তনকারী’ (Mood lifter) হিসেবে কাজ করে। এটি মস্তিষ্কের আনন্দ কেন্দ্রকে উদ্দীপিত করে Dopamine, Serotonin এবং Endorphin নিঃসরণ করে, যা Cortisol-এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। এর ফলে মেজাজ উন্নত হয়।