চন্দন চক্রবর্তী
‘মনে রঙ থাকনা থাক একদিন প্রকৃতি রঙিন হয়’-বড় অদ্ভুত এই দিন-‘দোল’। ছোটকাল থেকে বৃদ্ধকাল-সবই কালই আজ ফাগুয়ার রঙে রঙিন হয়। পলাশ, শিমূলের মত বাউল পাখিও উড়ে বেড়ায় মনের আনন্দে। ঘরে মন থাকে না। গোকুল বৈরাগীর একতারা হতে চায়।
কমপ্লেক্সের নীচে চলছে ‘কৃষ্ণগান’। হরিনামেই মুক্তির পথ। আজ মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মদিন। (১৪৮৬ সালের এই দিনে। তার ৫০০ বছর পূর্তি থেকে – জন্মোৎসব উদ্যাপনের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে)। প্রথম ভারতীয় তথা বাঙালি যাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল। প্রকৃত নবজাগরণের গান। মিছিল করে যে প্রতিবাদও করা যায়। এই কনসেপ্টের কথা প্রথম শুনি তার কণ্ঠে। দেখি তার ঊর্ধ্ববাহু করা নৃত্য ছন্দে অর্থাৎ তিনি ও ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ এর কথা ভুলে গেছেন।
এইসব তত্ত্বকথা নয় বরং ভাবি আমাদের ছেলেবেলার দোল খেলার কথা। দুর্গাপুজোর আগে মহালয়া যেমন একটা সূচনাপর্বের কথা মনে করিয়ে দেয় ঠিক তেমনই দোলের আগের দিন ন্যাড়া পোড়ানো উৎসব ছিল। দোলের শুভ সূচনা পর্ব।
থাকতাম ডায়মন্ডহারবারের মাধবপুর গ্রামে। আমরা বাচ্চারা গোটা গ্রাম দাপিয়ে বেড়াতাম সকাল থেকে অথবা আগের দিন বিকেল থেকে। যত শুকনো ডালপালা-নারকেল, খেজুর গাছের শুকনো ডাল থেকে চাচর, শুকনো পাতা, এর বাড়ি ওর বাড়ি হানা দিয়ে কাঠের টুকরো। খড়ের গাদা অবশিষ্ট খড় টান মারা। বাঁশ ঝাড় থেকে ডালপালা কেটে জড়ো করা। অনেকটা বানরসেনার মত কাজ। তারপরে বড়রা ওটা কষে বেঁধে বিশাল উঁচু একটা স্টাকচার বানাতো। ওটা হতো সামনের মাঠে। ধান চাষ হয়ে যেত। নাড়া গাছ মানে ধান গাছের গোড়া গোছা গোছা পড়ে থাকত ফসলের জমিতে। সেখানেই চলত সেই ন্যাড়াপোড়ানোর উৎসব। পুরাণের ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন বড়রা বলত এই আগুন পুজো করা মানে কীটপতঙ্গ, বিষাক্ত পোকামাকড়, মশা মাছি যা কিনা ক্ষতিকারক তাদের পুড়িয়ে মারা। ক’টা মরত তা আমরা জানতাম না বা দেখতাম না। আমরা শুধু হিসাব রাখতাম কার ক’টা আলু ওই আগুনে নিক্ষিপ্ত হল। সেই আলুপোড়া নুন দিয়ে খেতাম আমরা। দারুণ স্বাদ আর কত অল্পতে খুশি হওয়ার দিন ছিল তখন। বেশ মজার ছিল। সামান্য আলুপোড়া নিয়েও ঝগড়া লেগে যেত। কার আলু ভালো পুড়েছে? কারটা ভালো টেস্ট ইত্যাদি নিয়ে।
পরের পর্ব পরবর্তী সংখ্যায়…….
