মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়
ষষ্ট পর্বের পর……
ফেরার পথে যেন একদম অন্যরকম লাগছে শহরটাকে। ট্রাফিক জ্যামেও কলকাতা যেন আজ বিরক্ত হচ্ছে না, রাস্তার সব মানুষগুলোর মুখে যেন কতো আনন্দ, আলোয় ভরে উঠেছে সারা শহর ঠিক পলার মুখের মতো। আজ যে পলাকে ছোঁবে সেও আলোয় আলোয় ভরে উঠবে। পলা ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না এই ভাবেও সে একদিন বেঁচে উঠবে। তানি আর পলার হাতের আঙুল ভীষণ শক্ত করে পরস্পরকে জড়িয়ে রয়েছে। গাড়ি এসে বাড়ির গেটের কাছে থামতেই নেশা কাটল পলার। দরজা খুলে বাগানে পা
রাখতেই পলার মনে হল এই সন্ধেবেলাতেও বাগান ভর্তি কতো রঙের প্রজাপতি। উড়ে
বেড়াচ্ছে, পলার গায়ে এসে বসছে। একটা অদ্ভুত অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে পলাকে।
ঘরে ঢুকতেই অরূপের চোখ গেল পলার পিঠে। “কোথায় গিয়েছিলে তোমরা? পিঠে লাল দগদগে ওটা কি? “ট্যাটু” সংক্ষিপ্ত নির্ভীক উত্তর এলো পলার কাছ থেকে।
আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণ হল। অরূপকে দেখে মনে হল এতো দিনে বাঘটা তার বিষ দাঁত
বার করেছে।
নির্বাক পলা। শুধু চোখে মুখে একটা কিছু অ্যাচিভ করার খুশি। অরূপের সাথে তানির দু একটা একটু উষ্ণ বাক্যবিনিময় হল। কিন্তু তানির অকাট্য যুক্তির কাছে আগেও হার মানতে হয়েছে অরূপকে।
অরূপ অস্থির হয়ে বাড়ির বাইরে ফুটপাথে এসে একটা সিগারেট মুখে দিয়ে উত্তেজিত ভাবে লাইটারটা হাতড়াচ্ছে পকেটে, ঠিক সেই সময় একটা দেশলাই এর আগুন তার মুখের কাছে। তানি। “শান্ত হও দাদাই, ইটস কল জেনারেশান গ্যাপ। বি মর্ডান বাই ইওর মাইন্ড নট বাই
ক্লদস অ্যান্ড বাঁচো বিন্দাস!”
সমাপ্ত…..
