ডা চন্দ্রগুপ্ত

চতুর্থ পর্বের পর……

আমার ভেতরে জ্বালা হচ্ছে, খুব রাগ হচ্ছে লোকটির উপরে। যে খাবার ফেলে দিতে হয়, যে খাবার নিজে খাওয়া যায় না, সে খাবার ওই গরিব ভিখারিদের দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। মনে মনে স্থির করে নিলাম এখনই ভদ্রলোককে জুতসই জবাব দিতে হবে।

কিন্তু এগোতে গিয়ে দুদিন দিন আগে আমার ঘরে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। ”আমাদের কিচেনে একটা হটপটের মধ্যে ফ্রাইড রাইস রাখা ছিল রাতে। ঢাকনাটা সরানো ছিল। যাতে ভেতরের গরমটা বেরিয়ে যায়। একটু পর আমার গিন্নী সেখানে গিয়ে দ্যাখে এটা আরশোলা তার উপরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাকে রাগত স্বরে বলল, অফিস থেকে এসে খবরের কাগজ দেখছো। ওদিকে রাতে তোমার জন্য বানানো ফ্রাইড রাইসের ওপরে আরশোলা ঘুরছে। আমি বোকার মতো হাঁ করে তাকিয়ে থাকলাম। দোষটা কার সেটা বোঝার চেষ্টা না করেই আবার পেপার পড়ায় মন দিলাম। গিন্নি নিজের মনে গজগজ করতে করতে বলল, -ঠিক আছে তোমাকে পরোটা বানিয়ে দেবো। আর ওটা, কালকে মালতি আসবে কাজ করতে, ওকে দিয়ে দেবো, খুশি হবে।” আমি ভেবে দেখলাম, আমরা নিজেদের ঘর থেকেই ভালো জিনিস শিখতে পারি না। অন্যের কাজের সমালোচনা করার অধিকার আসে কি করে !!

ইতিমধ্যে আমার পেছনে জোরে জোরে চিৎকার করছে বাসের কন্ডাক্টার, সাউথসিটি, যোধপুর পার্ক, যাদবপুর…… পেছনে তাকিয়ে দেখলাম আমার কাঙ্খিত এক নম্বর বাম হাতের কাছে দাঁড়িয়ে। দৌড়ে

গিয়ে বাসের হ্যান্ডেল ধরলাম। নাকি পালিয়ে গেলাম, নিজেকে আয়নায় দেখতে হবে বলে !!!

শেষ ….