সরোজ ঘোষ
শিল্পীর অনুপস্থিতিতে তবলাবাদকের ভাগ্য খুললো
মাত্র সতেরো বছর বয়েসে পূর্ব বাংলার ফরিদপুর থেকে ভাগ্যের অন্বেষণে কলকাতায় আসেন। কাকার আশ্রয় থেকে সেকালের স্বনামধন্য সংগীতাচার্য অন্ধগায়ক সাতকড়ি মালাকারের কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নিতে শুরু করেন। কিন্তু অদৃষ্টের এমনই পরিহাস কিছুদিনের মধ্যে কাকা মারা গেলেন। ফলে আশ্রয় ও গুরু-সান্নিধ্য, দুই-ই হারাতে হল। ঠিকানা হল ফুটপাত। তবুও হাল ছাড়েননি। ১৯৩১ সালে তিনি এনায়েত্ খাঁ, আলাউদ্দী খাঁ প্রমুখ দিকপাল গুণী শিল্পীদের সঙ্গে সঙ্গত করার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু নিজের সুযোগ কবে আসবে? এত ত্যাগ স্বীকার করে ততদিন বিশিষ্ট ওস্তাদ কলাবৎদের কাছে সংগীতের তালিম নিয়েছেন। যদি জনসমক্ষে গাইতে না পারেন তাহলে সবই বিফলে যাবে।
অবশেষে সেই কাঙ্খিত সুযোগ এলো। সেকালের শাস্ত্রীয় সংগীতের বিশিষ্ট গায়ক জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামীর বেতার অনুষ্ঠান ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি আসতে পারেন নি। বিকল্প গায়কের খোঁজ পড়ল। ওদিকে হাতে সময় নেই। আকাশবাণীর অনুষ্ঠান সংস্থাপকরা তাকেই বসিয়ে দিলেন রেডিও কর্তৃপক্ষ। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ। পরবর্তীতে খেয়াল ও ঠুংরি গানের বিশিষ্ট কলাবৎ হিসেবে দেশে বিদেশে প্রভূত সুনাম অর্জন করেছেন। প্রচার বিমুখ মানুষ ছিলেন। ভারত সরকারের ‘পদ্মশ্রী’ খেতাব প্রত্যাখান করেছিলেন। এই মহান শিল্পীর নাম সংগীতচার্য্য তারাপদ চক্রবর্তী।
ছবি : উইকিপিডিয়া
