গৌতম দে
দ্বিতীয় পর্বের পর……
এইরকম সাতপাঁচ ভাবতে থাকে সুখেন। ভাবনা যেন আপনা আপনি মগজে জেগে ওঠে। তখন কাউকে কিছু বলতে পারে না।
আরও আছে গো… আরও আছে। একশ দিনের কাজে তার নাম আছে। নাম আছে তার বউ মালতিরও। তাকে কাজে যেতে হয় না। তবুও তার নামে টাকা তোলা হয়। তবে পুরোপুরি হাতে পায় না।
রানাবাবুর হাত দিয়ে সেসব খানিকটা আসে। সুখেনের টাকাও রানাবাবু দেয়। সেটাও পুরোপুরি নয়। তবু কাজ করতে হয়। পেট তো আর মানবে না। মালতিকে যেতে হয় না। সুখেনকে যেতে হয়। এখনও অনেক টাকা বকেয়া আছে রানাবাবুর কাছে। কবে দেবে কে জানে! এরকম শুধু সুখেনের একার নয়, অনেকের আছে।
গত বছর পঞ্চায়েত ভোটের সময় মালতিকে একটা সুন্দর শাড়ি উপহার দিয়েছিল। দামী শাড়ি। লাল রঙ। জরির পাড়। মালতির গায়ের রঙ ফর্সা। দেখতে শুনতে ভাল। শরীরে কষ আছে। রানাবাবু সুখেনের হাতে শাড়িটা দিয়ে বলেছিল, এই শাড়িটা বউকে দিস। আমি নিজে হাতে বেছে রেখেছি… তোর পছন্দ হয়েছে তো?
সুখেন ঘাড় কাত করেছিল শুধু। সেদিন মুখে কিছু বলেনি। শুধু হেসেছিল। তার মানে বউয়ের দিকেও তাদের নজর আছে।
—তোর বউকে মানাবে ভাল। গায়ের রঙ ফর্সা। তারপর হাসতে হাসতে আরও বলেছিল রানাবাবু শুধু তোর বউ নয় রে, এ গাঁয়ের প্রতিটা মেয়ে-বউকে পার্টির তরফ থেকে আগাম পুজোর উপহার দিচ্ছে…। বলেই দলবল নিয়ে হা হা করে হেসে উঠেছিল আরেকবার।
মালতি দরমার ফাঁক দিয়ে শোনার পরও ঘরের বাইরে এসে নতুনভাবে জিগ্যেস করে, কি বললে গো তোমাদের নেতা?
ক্রমশ…….
