ডা চন্দ্রগুপ্ত
তৃতীয় পর্বের পর……
‘এই নটা কলেজের সংসদ-ই আমাদের চাই, —অবশ্য পরামর্শ চাইলে পাবে এর জন্যে।’ কানাই জানে যে ‘ইলম ভবনের’ মিটিংয়ে একটা ঐতিহাসিক চমক আদায় করে নিয়েছে প্রণব বসু। একটা নয়, দুটো। আগামী বছর জানুয়ারীর পার্টি কংগ্রেসে রাজ্য কমিটিতে প্রণবদার নাম পাকা হয়ে গিয়েছে। শুধু রাজ্যের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অপেক্ষা।
রাজ্য স্তরের সব নেতাই এটা মেনে নিয়েছে যে প্রণব বসুর মত কুট বুদ্ধির নেতা এরাজ্যে হাতে গোনা।
মিটিংয়ে সদস্যদের মধ্যে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে ফিফিসানি। এর মধ্যে মুখ খুলল হাবুল। ‘প্রণবদা, কলেজগুলোতে আমাদের যে সমস্ত মেম্বাররা চাকরি করছে, তাদের সহযোগীতা পাচ্ছি না। নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের ডিটেলস্ না পেলে নতুনদের তুলতে সমস্যা হচ্ছে, মেম্বাররা যদি আমার সাথে।’— ‘থামলে কেন, তোমার তো সমস্যা অনেক। চিন্তা নেই হাবুল আমি সব শুনবো। তার আগে তুমি উপস্থিত সাথীদের বল যে, প্রগতিশীল দলের জেলা সভাপতির সাথে প্রায় রোজই তোমাকে চা দোকানে কেন দেখা যাচ্ছে?’
ওৎ পেতে থাকা শিকারীর মত প্রণব বসু শিকারের দিকে ঝাপ মারল। ওর নেটওয়ার্কে এটা অনেক দিন আগে ধরা পড়েছিল। কানাই-এর সাথে প্রণব বসু আলোচনা করেছে এ বিষয়ে। এমন অনেকের বিষয়ে প্রণব বসু জানে, কিন্তু ও পালের গোদাটাকে শিকার করতে চায়। তাহলেই বাকিগুলো কাৎ হবে।
প্রণব বসুর এই কৈফিয়ৎ চাওয়ার মাধ্যমে হাবুলের লবির দু-তিনজন বুঝে গিয়েছে যে এবার এমন অনেক প্রশ্নের মুখে তাদেরও পড়তে হতে পারে। নীচু তলার সদস্যরা পার্টি লাইনের বাইরে গেলে ধরা পড়বেই। কিন্তু প্রণব বসুরা ধরা পড়ে না। অন্যায়ভাবে অন্যের বাড়ি দখল করেও তারা থাকতে পারে। জোনের এই নেতারা জানে যে প্রণব বসু কেন্দ্রীয় কমিটির কাছের মানুষ। তাই রাজ্য-জেলা স্তরের কেউ ওনাকে ঘাটায় না। প্রণব বসুর জন্যেই কেবল দল পার্টি লাইনের বাইরে কাজ করে।
ক্রমশ….
রাজ্য স্তরের সব নেতাই এটা মেনে
