প্রবীর আচার্য
সপ্তম পর্বের পর….
সবশেষে দেখা যাক নিমক কিভাবে নিমকহারাম হয়। খাদ্যলবণের সঙ্গে সোডিয়াম কিংবা পটাসিয়ামের আয়োডাইড লবণ যদি পরিমাণ মতো না থাকে তাহলে থাইরয়েড গ্রন্থির বিকাশ ঘটে না।
তাতে গলগণ্ড রোগ হয়, বুদ্ধির বিকাশ লাভ হয় না এবং শারীরবৃত্তীয় বিপাকীয় ক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটে। তখনই নিমক হয় নিমকহারাম। এখন বিজ্ঞাপিত আয়োডাইজড লবণ সত্যি সত্যিই আয়োডিন থাকে কিনা একটা অতি সহজ পরীক্ষার মাধ্যম তা বোঝা যায়। আয়োডাইজড লবণে লেবুর রস মেশালে সঙ্গে সঙ্গে নীলচে রঙ ধারণ করবে।
কারণ লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড সোডিয়াম বা পটাসিয়াম আয়োডাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম বা পটাসিয়াম নাইট্রেট তৈরি করবে আর নীলচে বেগুনি আয়োডিন প্রতিস্থাপিত বা মুক্ত হবে। লেবুর বদলে আলুছেঁছা রস কিংবা স্টার্চের দ্রবণ নিয়ে পরীক্ষা করলেও একই ফল পাওয়া যাবে। তাহলেই বোঝা যাবে এই লবণ নিমকহারাম নয়।
অর্থাৎ বিজ্ঞাপনদাতা বাণিজ্যিক সংস্থা নিমকহারামি করেনি। আর যদি লেবুর রস লবণে নীলচে রঙ ধারণ না করে তা হলে বুঝতে হবে বিজ্ঞাপনদাতা বাণিজ্যিক সংস্থা নিমকহারামি করছে, অর্থাৎ আয়োডাইজড লবণ বলে মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়েছে।
সমাপ্ত…..
