সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
চতুর্থ পর্বের পর……..
…….
কুণ্ঠিত ধনঞ্জয়বাবু, ‘না থাক স্যার, কি আর শুনবেন। সব পরাজিত বাবা মা’র একই
দুঃখের কথা।’
‘প্লিজ, আমার জন্য বলুন। আমি যে আপনার গল্পের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছি। আপনার যত দুঃখ ক্ষোভ অভিমান আমাকে বলুন’।
“সব কিছু মেনে নিচ্ছিলাম। আমরা প্রতি রাত্রে অন্ধকার ঘরে সারা রাত জেগে কাঁদতাম। ঐ কান্নাটাই যেন ছিল আমাদের দুজনের একান্ত আশ্রয়, এক আকণ্ঠ বিলাসিতা। বুঝতে পারছিলাম আমরা পরগাছা ধরনের উদ্ভিদে পরিণত হয়েছি, কিন্তু বাঁচার আর কোন উপায়ও জানা ছিল না। এমন ভাবেই চলছিল নিত্য খিটিরমিটির। একদিন সকালে বাজার থেকে ফিরে নিজের চোখে দেখলাম আমার ছেলের বউ আমার স্ত্রীকে ধরে মারছে। আমার স্ত্রী কাঁদছে আর বলছে আমার ছেলের যখন সম্মতি আছে তখন তুমি আমাকে মার, বারণ করব না। ধরে নেব এটাই আমার প্রাপ্য ছিল।
আমি দেখলাম ছেলে সামনে চেয়ারে বসে কাগজ পড়ছে আর তার সামনে তারই মাকে ধরে কেউ মারছে। আমি রাগে দুঃখে অপমানে পাথর হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোন প্রতিবাদ অশান্তি করিনি, কারণ আমি বা আমার স্ত্রী কেউ গলা তুলে গুছিয়ে কথা বলতে পারতাম না। দুপুরে খাওয়া সেরেছিলাম খুব সাধারণভাবেই।
তবে সেইদিন বিকেলেই আমরা নিউটাউনের ছেলের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে এই বৃদ্ধাশ্রমে এসে উঠেছিলাম। ছেলেকে আজ অবধি জানাইনি আমার ঠিকানা। আমার ছেলেও হয়ত খোঁজ করেনি।
আমরা গত ছ’বছর এই আশ্রমে আছি। এখানকার মানুষগুলোর সাথে রক্তের সম্পর্ক নেই, কিন্তু তা এরা বুঝতে দেয় না। গত বছর আমার স্ত্রী গত হয়েছেন। আমিও ক্যানসারে ভুগছি। জানিনা কতদিন আর বাঁচব”।
ক্রমশ…….
