ওয়েব ডেস্ক; ২৭ মে : অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর রাষ্ট্রীয় কার্যকারী পরিষদের (NEC) বৈঠক আগামী ২৯ থেকে ৩১ মে , পবিত্র জগন্নাথ ধাম ভুবনেশ্বরের শিক্ষা ও অনুসন্ধান বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে দেশজুড়ে এবিভিপির জাতীয় পদাধিকারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রনেতা, শিক্ষাবিদ এবং সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধিসহ মোট ৪৮৪ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন।
NEC বৈঠকের পূর্বে ২৭ মে কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির বৈঠক হবে, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১০৬ জন কার্যকর্তা অংশ নেবেন। ২৮ মে এবিভিপির বিভিন্ন আয়াম, গতিবিধি ও কার্যের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে সারা বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম, কর্মসূচি, সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ কর্ম যোজনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ক্রীড়া, শিল্পকলা, সেবামূলক কাজ, পরিবেশ, গবেষণা, চিকিৎসা শিক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি, জনজাতি সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ছাত্র কার্যক্রমের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচালিত কাজের মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হবে।
বৈঠকের প্রাক্কালে একটি “নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান” স্থির করা হয়েছে। এবিভিপির প্রাক্তন ও বর্তমান কার্যকর্তা, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক নেতৃত্বকারী ব্যক্তিরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। ওডিশার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।
তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় কার্যকারী পরিষদের বৈঠকে বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতি, শিক্ষাব্যবস্থা, যুবসমাজের ভূমিকা, জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়, সাংগঠনিক পর্যালোচনা ও সম্প্রসারণ এবং সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে। “অখিল ভারতীয় বিচার বৈঠক ২০২৫”-এর সিদ্ধান্তসমূহের পর্যালোচনা এবং “সাংগঠনিক বিচার বৈঠক ২০২৬”-এ গৃহীত সিদ্ধান্তগুলির সংকলন ও বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হবে। সংগঠন, কর্মসূচি ও বিভিন্ন অভিযানভিত্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হবে। দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি ও কার্যকর্তারা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করবেন।
এবিভিপির বর্তমান ইনিশিয়েটিভ যেমন “স্ক্রিন টাইম টু অ্যাক্টিভিটি টাইম ক্যাম্পেইন”, “ঐতিহাসিক বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর”, “হোস্টেল সার্ভে অভিযান”, “প্রফেসর যশবন্তরাও কেলকার জন্মশতবর্ষ”, “জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ৫০ বছর”, “শ্রী গুরু তেগ বাহাদুরজির মৃত্যুর ৩৫০ বছর” এবং “সন্ত শিরোমণি রবিদাসজির ৬৫০তম প্রকাশোৎসব”-এর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ যোজনা নির্ধারণ করা হবে।
সদস্যতা বৃদ্ধি, ক্যাম্পাস ইউনিট গঠন এবং বিভিন্ন ইউনিটের উদ্ভাবনী সাংগঠনিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনের গুণগত বিকাশ নিয়েও আলোচনা হবে। এসব উদ্যোগের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আগামী বছরের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হবে। এছাড়াও রাষ্ট্রীয় অধিবেশন ২০২৬, SEIL যাত্রা, আন্তর্জাতিক ছাত্র সংযোগ এবং সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। শিক্ষা, সমাজ, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং যুবসমাজের সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কিত প্রস্তাবও সভায় গৃহীত হবে।
এবিভিপির রাষ্ট্রীয় সাধারণ সম্পাদক ড. বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বলেন, “বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে বিদ্যার্থী পরিষদের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই রাষ্ট্রীয় কার্যকারী পরিষদের বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দেশের প্রতিটি রাজ্য থেকে এবিভিপির বিশিষ্ট কার্যকর্তারা এই বৈঠকে অংশ নেবেন। সাংগঠনিক, শিক্ষাগত, পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, জাতীয় নিরাপত্তা ও যুবসমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও গৃহীত হবে। আগামী দিনে এবিভিপির প্রতিটি নগর ও ক্যাম্পাস ইউনিট এই বিষয়গুলিতে কাজ করবে। সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ ভুবনেশ্বরে আয়োজিত এই বৈঠক সাংগঠনিক শক্তি, আদর্শগত স্পষ্টতা এবং কর্মসূচির সম্প্রসারণের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”
