ওয়েব ডেস্ক; ৯ জুন : বিগত কয়েক বছরে ভারতের প্রশাসনিক পরিমণ্ডল আরও বেশি প্রযুক্তি চালিত, স্বচ্ছ ও নাগরিক-কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। ২০১৬-র ৯ অগাস্ট চালু হওয়া গভর্নমেন্ট ই-মার্কেট প্লেস বা জিইএম সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করে তুলেছে।

খাতায়-কলমে কাজ ও কায়িক শ্রমের ব্যবহার কমিয়ে এই মঞ্চ ভৌগোলিক অঞ্চল নির্বিশেষে আরও বেশি সংখ্যায় ব্যবসায়িক উদ্যোগকে নিজের পরিষেবার আওতায় এনেছে। ডিজিটাল ক্রয় ব্যবস্থাপনার প্রসারে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে জিইএম।

এই মঞ্চের সুবাদে জোরদার হয়েছে ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস। অন্তর্ভুক্তির আদর্শে পরিচালিত জিইএম-এ নিবন্ধিত মাঝারি ও খুচরো উদ্যোগের সংখ্যা ২০১৬-১৭-র ২৩৯৬ থেকে বেড়ে বর্তমানে হয়েছে ১১.৯ লক্ষ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ সংস্থাগুলি থেকে পণ্য ক্রয়ের মূল্যমান ৬৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮.৬৯ লক্ষ কোটি টাকা। এই মঞ্চে দেওয়া বরাতের সংখ্যা ২৯৯৪ থেকে বেড়ে ২.১৭ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

জিইএম-এ নিবন্ধিত মহিলা পরিচালিত ক্ষুদ্র উদ্যোগের সংখ্যা ২০১৬-১৭-য় ছিল ২৬৮। বর্তমানে তা ২.১৬ লক্ষ ছাড়িয়েছে। ক্রীত পণ্যের মূল্যমান ৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ছাড়িয়ে গেছে ৯৩,৩২৭ কোটি টাকার সীমা। মঞ্চটিতে সক্রিয় স্টার্টআপের সংখ্যা ৮৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০,০০০। এক্ষেত্রে ক্রীত পণ্যের মূল্যমান ২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬১,৪০০ কোটি টাকারও বেশি অঙ্কে দাঁড়িয়েছে। জিইএম-এ তপশিলি জাতি-উপজাতি গোষ্ঠীভুক্তদের পরিচালিত ক্ষুদ্র উদ্যোগ সংস্থার সংখ্যা ৩৮ থেকে বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬৬,০০০-এরও বেশি। এক্ষেত্রে কৃত পণ্যের মূল্যমান ২১,৮০০ কোটি টাকার বেশি।

শুধু সরকারি ক্রয় নয়, জনপরিষেবা প্রদানের কাজেও দক্ষতা এনেছে জিইএম। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের বিষয়টি খুবই স্পষ্ট। এই মঞ্চের মাধ্যমে ৩২৪ কোটিরও বেশি প্রতিষেধকের ডোজ এবং ১৯৯ কোটি সিরিঞ্জ কেনাবেচা হয়েছে। বন্দে ভারত ট্রেনের মেডিক্যাল কিট, রোগ নিরুপনের সরঞ্জাম প্রভৃতি কেনাবেচা হয় এই মঞ্চে।

এই মঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রকৌশল ব্যবহার হয়। রয়েছে ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা। নিলামের কাজ হয় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে।

স্থানীয় সংস্থা থেকে পণ্য কেনার মাধ্যমে আত্মনির্ভর ভারত গঠনের দিশায় সরকার যেভাবে এগোতে চাইছে, তাতেও জিইএম বিশেষ অবদান রেখে রয়েছে। এখানে নিবন্ধিত ক্ষুদ্র সংস্থা ও স্টার্টআপের সংখ্যা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট।

জিইএম-এর সিইও মিহির কুমার এক অনুষ্ঠানে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় এই মঞ্চের কার্যকারিতা বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *