দেবাঞ্জন দাস , শুভাবরি ওয়েবডেস্ক , ৯ জুন, কলকাতা: করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশে লকডাউন চলছে, বিভিন্ন জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমত অবস্থায় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মকে নিজেদের জনসংযোগের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে আজ এক নজির করল বিজেপি সরকার। ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে সুদূর দিল্লি থেকে বঙ্গ বিজেপিকে এবং সারা বাংলার মানুষকে জনসভার মধ্যে নিয়ে আসলেন অমিত শাহ।
বঙ্গ বিজেপির ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা ছিল এই জনসভার।
সারাদেশে ৭৫ টি ভার্চুয়াল জনসভার বেশি জনসভা করার ইঙ্গিত দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন,” বাংলা এখনো রাজনৈতিক হিংসার শিকার। এই রাজনৈতিক হিংসায় বিগত বছরগুলোতে বিজেপির ১০০ জনেরও বেশি সমর্থক প্রাণ হারিয়েছেন । তাদের এই বলিদানকে বৃথা হতে দেব না। বিজেপি সাংস্কৃতিক বাংলা তৈরি করতে চায়। আমরা সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের বিভিন্ন কাজের হিসাব দিয়ে এসেছি।

সারাদেশে ৩১ কোটি জনধন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে । করোনা আবহে সেই একাউন্টে মোদিজী টাকা পাঠিয়েছেন। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে ৪২ টা আসনের মধ্যে ১৮ টি আসনে জেতা, সর্বসাকুল্যে ৩০০ টিরও বেশি আসন থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। “
তিনি বলেন আয়ুষ্মান ভারত যোজনা জন্য ৫০ কোটি ভারতীয় উপকার পেয়েছেন। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অপারেশনের খরচ সাধারণ মানুষ পেয়েছেন। এক কোটি মানুষ তিন বছরের কম সময়ে অপারেশনের সুযোগ পেয়েছে এই যোজনার মাধ্যমে। এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কথা টেনে তিনি বলেন, গরিবের ন্যায্য অধিকারকে বাধা দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আয়ুষ্মান ভারতকে বাংলায় এখনো পর্যন্ত মান্যতা দেওয়া হয়নি । দিল্লির সরকার আয়ুষ্মান ভারতকে স্বীকার করে নিয়েছেন। তাহলে পশ্চিমবঙ্গে গরিবের চিকিৎসার কি কোন অধিকার নেই” ?
বাংলার মানুষকে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন , “যে দিন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় শপথ নেবেন ঠিক তার এক মিনিট পরেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাংলায় চালু হয়ে যাবে।” তিনি উল্লেখ করেন ” ৮ কোটি গ্যাস সিলিন্ডার সারা ভারতে মানুষ বিনামূল্যে পেয়েছেন । আড়াই কটি গরীবের ঘরে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, ১০ কোটি ঘরে শৌচালয়, বাংলা ১৫ লক্ষ পাকা ঘর পেয়েছে।”
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অমিত সাহা বলেন ,” আমরা আমাদের হিসাব দিচ্ছি, আপনি কাল সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বিগত ১০ বছরের হিসাব দিন । “
নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কিছু মাস আগেও যেখানে সারাদেশসহ পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল হয়ে গিয়েছিল সেই প্রসঙ্গ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধলেন অমিত শাহ । তিনি বলেন , ” মতুয়া সমাজ নাগরিকত্ব পাবে না কেন? আপনি বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিতে বাধা দিচ্ছেন কেন? বাংলার মানুষ আপনাকে একদিন রাজনৈতিক শরণার্থী করে দেবে । “
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,” রাজ্যের কৃষকদের তালিকা এখনও পর্যন্ত রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেয়নি এর ফলে বছরে ৬ হাজার টাকা পাচ্ছেন না কৃষকরা। তিনি যেদিন রাজ্যের সমস্ত কৃষকদের তালিকা কেন্দ্রের কাছে পৌঁছে দেবেন তার একদিন পরেই তাদের একাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। “
পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেনে আসা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেওয়া করনা এক্সপ্রেসের কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রমিকদের অপমান করেছেন। এখনো পর্যন্ত ২৩৬ ট্রেনে সর্বসাকুল্যে প্রায় ৩ লক্ষ শ্রমিক রাজ্যে ফিরেছেন।”
রাজ্য বিজেপিকে এবং বাংলার মানুষকে নরেন্দ্র মোদীর হাত মজবুত করতে বলেন। দেশীয় জিনিস ব্যবহারের জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।
আজ এই ভার্চুয়াল জনসভার মাধ্যমে ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনকে কি পাখির চোখ হিসেবে তুলে ধরলেন অমিত শাহ? আগামী একুশে জুলাই তৃণমূল কি শহীদ দিবসে সারা বাংলা জুড়ে এইভাবে ভার্চুয়াল জনসভা করবেন, নাকি ধর্মতলার সেই পুরনো রূপটাই আমরা দেখতে পাবো? সেটাই এখন দেখার।