কলকাতা; ২৫ আগস্ট: কেন্দ্রীয় যোগাযোগ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়া কলকাতার উচ্চতর মানে উন্নীত কাঁকুড়গাছি উপ ডাকঘরের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে, দেশের আরও ১৩টি উন্নীত ডাকঘরেরও উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যোগাযোগ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি। দুই মন্ত্রী একযোগে ‘ডাক সেবা অ্যান্ড ডাক মিত্র’ অ্যাপ-এরও সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ করেন পশ্চিমবঙ্গ সার্কলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল অশোক কুমার-সহ ডাক বিভাগের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিশিষ্ট অতিথিরা।

স্কুল অফ প্ল্যানিং অ্যান্ড আর্কিটেকচার ডিজাইন ম্যানুয়াল অনুযায়ী উন্নীত কাঁকুড়গাছির এই ডাকঘরটিতে বিভিন্ন জনমুখী ডাক, আর্থিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। CIT রোডস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ ডেলিভারি পোস্ট অফিসটি ২,৭৬৩ বর্গফুট আয়তনের দখলমুক্ত জায়গা ও পরিকাঠামো ভবনে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিন্ধিয়া ইন্ডিয়া পোস্টের ধারাবাহিক গুরুত্ব এবং তার বিস্তৃত জন-পরিসরের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “পরিষেবামুখী সরকারের ভাবনা বাস্তবায়নে ইন্ডিয়া পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইন্ডিয়া পোস্ট পরিবারের প্রত্যেক সদস্য প্রতিদিন মানুষের সেবায় অবদান রাখছেন। বার্তা ও সামগ্রী বহন এবং নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভূমিকা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে, বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুন উদ্যমের মাধ্যমে সেই পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।”

‘ডাক সেবা অ্যান্ড ডাক মিত্র’ অ্যাপ প্রসঙ্গে সিন্ধিয়া বলেন, “ভাবনাটি হল, নাগরিকদের সরকারি দফতরে দফতরে ঘুরতে হবে না, বরং সরকারি পরিষেবাই মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে নিমেষে। ডাক সেবা অ্যাপ সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমি প্রতিটি ডাকঘরকে জনসেবার মন্দিরের মতো মনে করি। আমাদের লক্ষ্য হল, পরিষেবাগুলিকে আরও সহজ, নিরাপদ, দ্রুত এবং আধুনিক করে তোলা।”

কাঁকুড়গাছি ডাকঘরটির এই রূপান্তরের লক্ষ্য হল এলাকার বাসিন্দাদের ডাক, আর্থিক এবং ডিজিটাল পরিষেবা আরও সহজে পাওয়ার সুযোগ আর-ও সাবলিল করে তোলা এবং একইসঙ্গে ভারতের ডাক পরিষেবা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণকে আরও ত্বরান্বিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *