ওয়েব ডেস্ক; ২৮ মে: অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর একদিনের কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির বৈঠক ভুবনেশ্বরের শিক্ষা ও অনুসন্ধান বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের জনমতকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে সহিংসতা, ভয় ও তোষণের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এবিভিপির রাষ্ট্রীয় সভাপতি প্রফেসর রঘুরাজ কিশোর তিওয়ারি, রাষ্ট্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডাঃ বিরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি এবং রাষ্ট্রীয় সংগঠন সম্পাদক আশীষ চৌহান জী প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে বৈঠকের শুভ সূচনা করেন। দেশের সমস্ত প্রান্ত থেকে আগত কার্যকর্তারা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতি, শিক্ষাব্যবস্থা, যুবসমাজের ভূমিকা, জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়, সাংগঠনিক পর্যালোচনা ও সম্প্রসারণ এবং সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এবিভিপির বিভিন্ন উদ্যোগ যেমন — ‘স্ক্রিন টাইম টু অ্যাক্টিভিটি টাইম’ অভিযান, ‘বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর’, ‘হোস্টেল সমীক্ষা অভিযান’, ‘প্রফেসর যশবন্তরাও কেলকারের জন্মশতবর্ষ’, ‘জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ৫০ বছর’, ‘শ্রী গুরু তেগ বাহাদুরের শহিদ দিবসের ৩৫০ বছর’ এবং ‘সন্ত শিরোমণি রবিদাসজির ৬৫০তম প্রকাশ উৎসব’ — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি, সাংগঠনিক বিষয় এবং অভিযানের অগ্রগতি ও পর্যালোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সহিংসতা, ভয় ও তোষণের রাজনীতিকে পরাজিত করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে অভিনন্দন” শীর্ষক একটি অভিনন্দন প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিনিধিরা শিক্ষা, সমাজ, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং যুবসমাজ সম্পর্কিত সমসাময়িক বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেন। এই বিষয়গুলির উপর আগামী জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর প্রস্তাব গৃহীত হবে।

এবিভিপির রাষ্ট্রীয় সভাপতি প্রফেসর রঘুরাজ কিশোর তিওয়ারি বলেন, “সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণের জন্য পূর্ববর্তী বছরের কাজের পর্যালোচনা এবং বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির বৈঠকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দ্বারকা ও শৃঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত ‘বিচার বৈঠক’ এই প্রক্রিয়ার অংশ ছিল এবং বর্তমান সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে তা মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এ বছর প্রফেসর যশবন্তরাও কেলকারজির জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজিত সচেতনতা ও বৌদ্ধিক কর্মসূচিগুলি কার্যকর্তাদের তাঁর আদর্শ ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং আজকের সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এবিভিপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ভারতীয় দর্শন ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে, যাতে একটি সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং নতুন প্রজন্মের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ নিশ্চিত হয়।”

কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির বৈঠকে আগত সকল কার্যকর্তাদের স্বাগত জানিয়ে এবিভিপির রাষ্ট্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডাঃ বিরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বলেন, “যে সময়ে ভারত বিশ্বনেতৃত্বের দিকে এগিয়ে চলেছে, সেই সময় এবিভিপি গঠনমূলক আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে আরবান নকশালবাদ থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্য পর্যন্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে চলেছে। তেলেঙ্গানায় বৃত্তির দাবিতে আন্দোলন, নিট প্রশ্নফাঁসের বিষয়, মুম্বইয়ে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন অথবা দিল্লি ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের মাধ্যমে উদ্ভাবনী উদ্যোগ — এবিভিপি সবসময় ছাত্রসমাজের স্বার্থে কাজ করেছে। ত্রিপুরায় জনজাতি ছাত্র সম্মেলন, ওডিশায় ছাত্র সংসদ, তামিলনাড়ুতে আইন শিক্ষার্থী সম্মেলন এবং ‘মিশন সাহসী’-র মাধ্যমে দেশজুড়ে দশ লক্ষেরও বেশি ছাত্রীকে আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া — এগুলি এবিভিপির ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা ও বিস্তারের প্রতিফলন। এই বৈঠকে আমরা পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে সহিংসতা, ভয় ও তোষণের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে একটি প্রস্তাবও সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত করেছি। এই বৈঠক আমাদের আধ্যাত্মিক শক্তি ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে উদ্বুদ্ধ করবে এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে জাতি গঠনের সংকল্প নিয়ে আরও গতিশীলভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।”