ওয়েব ডেস্ক; ১০ আগস্ট: জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ ঘোষণার পর স্কুল এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এর রূপায়ণের জন্য একাধিক রূপান্তরকারী পরিবর্তন হয়েছে।

বিদ্যালয় শিক্ষায় একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেমন পিএম স্কুলস ফর রাইজিং ইন্ডিয়া পিএমশ্রী, সমগ্র শিক্ষা, ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ ফর প্রফিসিয়েসি ইন রিডিং উইথ আন্ডারস্ট্যান্ডিং অ্যান্ড নিউমেরিসি নিপুঁন ভারত, পিএম ই-বিদ্যা, ন্যাশানাল কারিক্যুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ফর ফাউন্ডেশন্যাল স্টেজ এবং জাদুই পিটারা, ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ ফর স্কুল হেডস অ্যান্ড টিচার্স হলিস্টিক অ্যাডভান্সমেন্ট, বিদ্যা সমীক্ষা কেন্দ্র, ইন্টিগ্রেটেড টিচার এডুকেশন পোগ্রাম, ন্যাশনাল ডিজিটাল এডুকেশন আর্কিটেকচার, নিউ ইন্ডিয়া লিটারেসি পোগ্রাম বা উল্লাস।

উচ্চ শিক্ষায় একাধিক উদ্যোগ এবং সংস্কার করা হয়েছে। যেমন ন্যাশনাল ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক এবং ন্যাশনাল হায়ার এডুকেশন কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে। নানা

পথনির্দেশ ও বিধি তৈরি করা হয়েছে উচ্চিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে। পিএম বিদ্যালক্ষ্মী কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নতুন স্বয়ম প্লাস পোর্টাল শুরু হয়েছে। সমার্থের মাধ্যমে ভর্তি থেকে ড্রিগ্রি প্রদানের জন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রযুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে ভারতীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সহযোগিতার পাশাপাশি ভারতীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদেশি ছাত্রদের সুযোগ দেওয়ার সঙ্গে ভারতে বিদেশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস খোলার নীতি নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা যৌথ তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তাই কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলি একসঙ্গে কাজ করে শিক্ষাক্ষেত্রে সার্বিক গুণমান ও অগ্রগতির প্রগতিশীল বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-তে রূপায়ণের জন্য বিভিন্ন সময়সীমার পাশাপাশি বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেইমত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক, রাজ্যসরকারগুলি, শিক্ষাসংক্রান্ত মন্ত্রকগুলি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মতো নিয়ামক এবং রূপায়ণকারী প্রতিষ্ঠানগুলি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ রূপায়ণে উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছে।

সরকার সমগ্র শিক্ষার মাধ্যমে বিদ্যালয় শিক্ষায় ডিজিটাল এডুকেশনের প্রসার ঘটাচ্ছে। সমগ্র শিক্ষার অধীনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে। দীক্ষা এবং পিএম ই-বিদ্যার মতো ডিজিটাল এডুকেশন উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।

ভারত সরকার ২০২৫-এর বাজেটে গ্রামাঞ্চলে সরকারি সব সেকেন্ডারি স্কুলে ব্রডব্যান্ড সংযোগের ঘোষণা করেছিল। স্বয়ম, স্বয়মপ্রভা, ই-পিজি পাঠশালা এবং ইউজিসি-র ই-রিসোর্স পোর্টালের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অতি গুণমান সম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।

১২৬টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৮০২টি অনলাইন কর্মসূচির ব্যবস্থা করেছে। ১২১টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় ১,৬৯৯টি মুক্ত ই- দূর শিক্ষা কর্মসূচি চালাচ্ছে।

উচ্চশিক্ষায় ইউজিসি ন্যাশনাল হায়ার এডুকেশন কোয়ালিফকেশন ফ্রেমওয়ার্কের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ইউজিসি নীতি নির্দেশিকা জারি করেছে এইডিপি-র জন্য। এআইসিটিই সক্রিয়ভাবে দক্ষতা উন্নয়নের কাজ করছে। কারিগরি শিক্ষায় এটিকে জুড়ে দিয়ে। স্বয়ম পাঠ্যসূচির মধ্যে কর্মংস্থান সংক্রান্ত দক্ষতা মডিউল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং শিল্পের প্রয়োজনের মধ্যে পার্থক্য ঘোচাতে ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ট্রেনিং কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দক্ষতা ও উন্নয়ন মন্ত্রক একাধিক প্রয়াস চালাচ্ছে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে।

ভারত সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতর রাষ্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযান রূপায়ণ করছে। এর লক্ষ্য নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়কে অর্থ প্রদান করা, যাতে পড়াশুনার গুণমানের উন্নতি হয়। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভারতীয় ভাষা পুস্তক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৫-২৬-এর কেন্দ্রীয় বাজেটে। ২০২৬-এর কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিটি জেলায় একটি মেয়েদের ছাত্রাবাস স্থাপনের ঘোষণা করা হয়েছে। লোকসভায় একটি লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *