চন্দন চ্যাটার্জি
সে সময় কোশল রাজ্যের রাজ প্রসেনজিৎ অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও এই ভয়ঙ্কর দস্যুকে আয়ত্ত্বে আনতে পারেননি। ভগবান বুদ্ধের কাছে এই দস্যু আত্মসমর্পণের কিছুদিন পরে স্বশিষ্য তথাগত শ্রাবস্তির জেতবনে অবস্থান করছিলেন। রাজা প্রসেনজিৎ তখন তথাগতকে প্রণাম জানাতে উপস্থিত হলেন সেখানে। কথাপ্রসঙ্গে অঙ্গুলীমালের কথা উঠতে রাজা তার অসফলতার কথা স্বীকার করেন। বুদ্ধদেব তখন হেসে বলেছিলেন যে আঙ্গুলিমাল যদি ভিক্ষুদের মধ্যে উপস্থিত থাকে, তবে রাজা কি করতে চাইবেন? রাজা বললেন যে, তিনি আঙ্গুলিমালকে শ্রমনের প্রাপ্য সম্মান দেবেন।
এবার ভগবান বুদ্ধ ভিক্ষুদের মাঝে আঙ্গুলিমালকে দেখিয়ে দিলেন। বিস্মিত রাজা প্রসেনজিৎ ওই সময় আঙ্গুলিমালকে বহুমূল্য পোষাক এবং বাসগৃহ দান করতে চাইলেন। কিন্তু বিনয়ের সাথে সে তা প্রত্যাখ্যান করে। এভাবে দুর্ধয্য দস্যু পরশপাথরের স্পর্শে সোনাতে রূপান্তরিত হয়েছিল। আমরা ‘নির্বাণ’ লাভের কথা শুনে থাকি। তার প্রকৃত অর্থ বলতে গিয়ে ইতিহাস রচনা করে ফেলি। তথাগত বুদ্ধ এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘রাগ, দ্বেষ ও মায়ামোহের আন্তর্ধানই হল নির্বাণ।
এভাবেই আমরা জানবো রাজকুমার গৌতমের তথাগত বুদ্ধের রূপান্তর পরবর্তী নানা কাহিনী যা বাস্তব জীবনে এক অমূল্য সম্পদ।
সমাপ্ত